১০ আগস্ট, ২০২৬
ইলিশের ভরা মৌসুমেও বরগুনার পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর নদী ও বঙ্গোপসাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা। এতে চরম সংকটে পড়েছেন বরগুনার উপকূলীয় এলাকার প্রায় এক লাখ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত জেলে পরিবার।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে বছরের এই সময়ে ইলিশের বেচাকেনা ও পাইকারদের হাঁকডাকে মুখর থাকার কথা। তবে এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করা থাকলেও নেই প্রত্যাশিত কর্মচাঞ্চল্য। মাছের সরবরাহ কম থাকায় অনেকটা খাঁ খাঁ করছে পুরো বন্দর।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গভীর সমুদ্রে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ ছোট ফাঁসের জালের অবাধ ব্যবহার এবং জাটকা নিধনের কারণে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীর মোহনায় ডুবোচরের বিস্তারও ইলিশের বিচরণ ও প্রজননে প্রভাব ফেলছে।
একাধিক জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে গেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না। একদিকে জ্বালানি, বরফ ও মাছ ধরার সরঞ্জামের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে মাছ না পাওয়ায় ট্রলারের খরচ ও জেলেদের খোরাকি তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে অনেকে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন।
জেলে পলাশ হাওলাদার বলেন, ‘আশা করে সাগরে যাই। কিন্তু মাছ পাই না। ট্রলারের তেল, বরফ, খাবারের খরচই ওঠে না। বাড়িতে পরিবার আছে, ছেলেমেয়েদের খরচ আছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কীভাবে বাঁচব?
একাধিক জেলেদের অভিযোগ, গভীর সমুদ্রে অবৈধ ট্রলিং এবং নিষিদ্ধ ছোট ফাঁসের জালের অবাধ ব্যবহার ইলিশের উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি ধরা পড়ছে ছোট মাছ ও জাটকা। ফলে ইলিশ বড় হওয়ার আগেই নিধন হয়ে যাচ্ছে।
মাছের সরবরাহ কম থাকায় পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের বাজারেও ইলিশের দাম বেড়েছে। বর্তমানে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশ।
পাথরঘাটা বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত এই বন্দরে ১১০ মেট্রিক টন ইলিশ বেচাকেনা হয়েছিল। চলতি বছর একই সময়ে বেচাকেনা হয়েছে মাত্র ৭৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ইলিশের বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জিএস মাসুদ শিকদার বলেন, ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় একদিকে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। ট্রলিং ট্রলার ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে মৎস্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে নিষিদ্ধ জাল ও জাটকা নিধন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইলিশের বিচরণক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলেদের স্বার্থে অবৈধ জাল ও ট্রলিং বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।