১১ আগস্ট, ২০২৬
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের বড় ধরনের সংঘাতের মুখে পড়েছে ইয়েমেন। গত ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরে অনুমতি ছাড়া আসা একটি ইরানি বিমান লক্ষ্য করে সৌদি জোটের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ‘মাহান এয়ারের’ ওই বিমানটিতে উচ্চপর্যায়ের হুথি প্রতিনিধিদল ছিল। ফলে বিমানটি সানা বিমানবন্দরে নামতে পারেনি।এই ঘটনার বদলা নিতে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র ও লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় এবং নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদা ও কামারান দ্বীপে পাল্টা বিমান হামলা চালায় এবং সীমান্তজুড়ে স্থল অভিযানের জোর প্রস্তুতি শুরু করে। হুথিরা পাল্টা ইয়েমেনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক ক্যাম্প এবং কৌশলগত মোখা বন্দরে রকেট ও ড্রোন হামলা চালালে বহু সেনা ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর তেহরানের নির্দেশে হুথিরা এই আঞ্চলিক চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের এলাকার চরম অর্থনৈতিক সংকট ও জনক্ষোভ ঢাকার উদ্দেশ্যে হুথি গোষ্ঠী ইয়েমেনের আকাশসীমা ও সমুদ্রবন্দরের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং সৌদি অবরোধকে দায়ী করছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ২০২২ সালের চুক্তির পর ইয়েমেন এখন সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ এড়াতে ওমানের মধ্যস্থতায় পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উভয়পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এখনো কোনো টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।