১২ আগস্ট, ২০২৬
চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। এটি গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এরপর জুলাই মাসের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশই সর্বনিম্ন হার। গত বছরের জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—দুই খাতেই মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমার ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্যের দাম কমার প্রভাব ছিল বেশি।
জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুন মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। গত বছরের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইয়ের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২০২৫ সালের অক্টোবরের ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশের পর সর্বনিম্ন।
খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুনে এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, যা জুলাইয়ে কমে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছে। গত বছরের জুলাইয়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
জুলাইয়ের ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও চলতি বছরের মার্চের ৯ দশমিক ০৯ শতাংশের পর সর্বনিম্ন। তবে এ খাতে মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
সার্বিকভাবে, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার দাম কমার ফলে জুলাইয়ে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে গত আট মাসের মধ্যে জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে এসেছে।