মানিকগঞ্জে জবির বাসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৫

১২ আগস্ট, ২০২৬

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীবাহী ‘কালীগঙ্গা’ নামের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

এতে বাসে থাকা চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন ৫ জন।

এ ঘটনায় রাতে সিংগাইর থানায় মামলা করেন বাসটির চালক।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে জবি শিক্ষার্থীবাহী একটি বাস সাভারের দিকে আসছিল। সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বলিয়ারপুর এলাকায় কাওসার হোসেন নামের এক অটোরিকশা যাত্রী ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ওই বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে অটোরিকশা যাত্রী কাউসারকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। এরপরই জবি শিক্ষার্থীবাহী ‘কালীগঙ্গা’ নামের আরেকটি বাস হেমায়েতপুর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক হয়ে মানিকগঞ্জ আসছিল। সন্ধ্যার দিকে ভূমদক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আটোরিকশা যাত্রী কাওসার ও তার ১০-১২ জন সাঙ্গপাঙ্গ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীবাহী বাসটির গতিরোধ করে ভাঙচুর করে। তখন শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তাঁদেরকেও মারধর করা হয়।

এসময় বাসের ভিতরে থাকা শিক্ষার্থী পূর্ণিমা, আখি আক্তার, রিনভি, উদয় চক্রবর্তী ও বাসচালক সাজ্জাদ হোসেন আহত হন। এদের মধ্যে আহত শিক্ষার্থী পূর্ণিমা, উদয় চক্রবর্তী ও বাসচালক সাজ্জাদ হোসেনকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আখি আক্তার এবং রিনভিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী পূর্ণিমার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় এদিন রাতেই অটোরিকশা যাত্রী কাওসারের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় মামলা করেন বাসচালক সাজ্জাদ হোসেন।

আসামি কাওসার হোসেন সিংগাইর উপজেলার ভূমদক্ষিণ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে।

শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমার স্ত্রী ও ছেলে কাওসার পাত্রী দেখার জন্য আমিন বাজার গিয়েছিলেন। সেখান থেকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। বলিয়ারপুর এলাকায় পৌঁছালে সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে জবি শিক্ষার্থীবাহী একটি বাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কাউসারকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ছেলে ও এলাকার লোকজন জবি শিক্ষার্থীবাহী বাস ভাঙচুর করে। এর জন্য আমি অনুতপ্ত।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় কাওসারের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন বাসচালক সাজ্জাদ হোসেন। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।