অনুমোদন পেল সহজ মোবাইলের স্মার্টফোন পাইলট প্রকল্প

১২ আগস্ট, ২০২৬

সুবিধাবঞ্চিত, গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্মার্টফোন আরও সহজলভ্য করে তাদের ডিজিটাল ও আর্থিক সেবার আওতায় আনতে একটি বিশেষ পাইলট কর্মসূচির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে পাইলট কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ‘সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেড’-কে আনুষ্ঠানিক অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিয়েছে।

উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো- স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে এককালীন অর্থ পরিশোধের যে বাধা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তৈরি হয়, তা কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে ডিজিটাল লেনদেন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস), ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও বাজারের তথ্য, কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই পরিচালনা করা সম্ভব। তবে উপযুক্ত স্মার্টফোনের তুলনামূলক বেশি দাম এখনো গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের জন্য বাধা হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এই পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে স্মার্টফোনের প্রাথমিক আর্থিক বাধা কমিয়ে একটি দায়িত্বশীল ও নিয়ন্ত্রিত মডেল পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এর ফলে নিম্নআয়ের মানুষ ডিজিটাল অর্থনীতি ও আর্থিক সেবায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু নায়েম ফয়েজ বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করে তা নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পাইলট প্রকল্পটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মসূচি থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ডিজিটাল অংশগ্রহণের আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরিতে অবদান রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সহজ মোবাইল বিডি লিমিটেডের পরিচালক আবু আল মোতালিব বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সুফল তখনই পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হবে, যখন বড় শহরের বাইরে বসবাসকারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যরাও সহজে ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, একটি উপযুক্ত স্মার্টফোনে মানুষের জন্য ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, শিক্ষা, তথ্য, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নীতি ও শর্তের অধীনে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ কর্মসূচিটি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি পাইলটের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের নিয়মিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।