১৩ আগস্ট, ২০২৬
সাধারণ করদাতা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা পুনর্বহাল এবং সঞ্চয়পত্রের উৎসে করকে পুনরায় 'চূড়ান্ত করদায়' গণ্য করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ‘ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন’।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান (দুলাল) এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, আইন পরিবর্তনের কারণে করদাতাদের মধ্যে চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা সরকারের কাঙ্ক্ষিত কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই করদাতাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সংশোধিত ধারাগুলো বাতিল করে বিগত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের আইন অবিলম্বে পুনর্বহালের জোর দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
আগের নিয়মে টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা নির্ধারণ-
২০২৫-২০২৬ করবর্ষে অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা প্রাপ্তি থাকা ফার্ম ও ব্যক্তি সংঘ এবং অনূর্ধ্ব ৪ কোটি টাকা প্রাপ্তি থাকা স্বাভাবিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার ট্যাক্স ধার্য করার বিধান ছিল। কিন্তু ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের নতুন বিধানে কোনো টার্নওভারের সর্বনিম্ন সীমা না রেখেই লাভ কিংবা লোকসান নির্বিশেষে সব গ্রস প্রাপ্তির ওপর সরাসরি ১ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হয়েছে। ট্যাক্স বার অ্যাসোসিয়েশনের মতে, লোকসানে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর এই কর আরোপ অন্যায্য ও ব্যবসায়ের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এজন্য আগের সীমা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সঞ্চয়পত্রের উৎসে করকে ‘চূড়ান্ত করদায়’ রাখা-
পূর্বের করবর্ষে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, সম্পত্তি হস্তান্তর ও রপ্তানি প্রণোদনা থেকে কর্তন করা উৎসে করকে করদাতার ‘চূড়ান্ত করদায়’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন আইনে এটিকে চূড়ান্ত না ধরে ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পেনশনার, বয়স্ক নাগরিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত করঝুঁকি ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। ট্যাক্সসেস আগের নিয়ম পুনর্বহাল চায়।
সংশোধিত আইনে ফার্মকে ‘কোম্পানি’ শ্রেণির করদাতার সমপর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্যাক্স বারের মতে, আমাদের দেশে যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কোম্পানি গঠন ও পরিচালনার আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রাখেন না, তারাই মূলত ফার্ম গঠন করেন। তাদেরকে কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে ফার্মকে পুনরায় 'ইন্ডিভিজুয়াল' ক্যাটাগরির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া পুরোনো আইনে হাউজিং ডেভেলপারদের সঙ্গে চুক্তি সূত্রে প্রাপ্ত সাইনিং মানি করযোগ্য হলেও, ভূমির বিনিময়ে পাওয়া ফ্ল্যাট বা স্পেস করযোগ্য মূলধনি আয় হিসেবে গণ্য হতো না। কিন্তু ৫৮(৩) ধারায় আনীত নতুন সংশোধনীতে জমির বিনিময়ে পাওয়া ফ্ল্যাট বা স্পেসকে মূলধনি আয় হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি ১৫ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা ট্যাকসেস বার অ্যাসোসিয়েশন এই বিধানকে প্রাকৃতিক বিচার নীতির পরিপন্থি পূর্ববর্তী আইনে পুনর্বহালের তাগিদ দিয়েছে।