লাকসামে ঘোষিত ৪ পরিবারকে সমাজচ্যুতের ঘটনায় বিএনপির নেতা বহিষ্কার

১৫ আগস্ট, ২০২৬

লাকসাম উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ইছাপুরা গ্রামে ঘোষিত চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘটনা ঘটেছে। এতে জড়িত থাকায় ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন উত্তর শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাদলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাদল বলেন, আগামীতেও সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে কোনো অপকর্মের বিরুদ্ধে এমন জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলমগীর হোসেনকে তার সাংগঠনিক পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় নাম, পরিচয় বা পদ ব্যবহার করে কোনো ধরনের সাংগঠনিক, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

এছাড়া উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএনপি দলের ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ইছাপুরা গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলী সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। উভয়পক্ষের জায়গা সম্পত্তির বিষয় নিয়ে সমাধানের জন্য সামজিকভাবে গ্রাম্য সালিশি বসে কয়েকবার। 

সালিশি মাধ্যমে দুই পক্ষের সঙ্গে সমাজোতা না হওয়ায় সালিশির এক পক্ষ মমিন আলী তার প্রতিপক্ষ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য সালিশির সিদ্ধান্তে চলতি মাসের ১০ আগস্ট এলাকায় মাইকিং করে মামলার বাদী মমিন আলীসহ চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

ঘোষিত সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘোষিত চার পরিবারের মধ্যে মমিন আলীর বসত ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটে। যা উপজেলা প্রশাসন ও  উপজেলা বিএনপির দলের নেতাকর্মীদের নজরে আসে।