সাভারে কেটলি বোমায় উচ্চ মাত্রার বিস্ফোরক আরডিএক্স!

১৫ আগস্ট, ২০২৬

সাভারে উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা ‘কেটলি বোমা’য় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক আরডিএক্স ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষ্ক্রিয় করার পর আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট দুপুরে সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের খোলা মাঠে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার পড়ে থাকাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ডিএমপির বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় বহুদূর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে সাদা ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

ঘটনাস্থলে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একজন বোমা বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বের হওয়া সাদা ধোঁয়ায় বিস্ফোরকের গন্ধ থেকে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা ধারণা করছি, বোমা তৈরিতে উচ্চ বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য বিকট গন্ধ সাদা ধোঁয়ার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।’

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত থেকে আমরা ধারণা করছি এতে উচ্চ বিস্ফোরক আরডিএক্স অথবা টিএটিপি ব্যবহার হতে পারে। এ ধরনের উচ্চ বিস্ফোরক বাংলাদেশে অতীতে কোনো বোমায় ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি এই ধরনের উচ্চ বিস্ফোরক আগে কখনো উদ্ধার হয়নি।’

আরডিএক্স কী ধরনের বিস্ফোরক জানতে চাইলে সিটিটিসির পদস্থ এই কর্মকর্তা বলেন, আরডিএক্স হলো ১.৩.৫ ট্রাইনাইট্রোপারহাইড্রো নামে একটি উচ্চমাত্রার বিস্ফোরকের যৌগ। এটি আইইডিকে (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লসিভ ডিভাইস) ডেটোনেট করলে আরডিএক্সের উপস্থিতিতে ভয়ংকরভাবে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সময় বাতাসে এর তাপমাত্রা ৩৩০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩৬০০ কেলভিন। এই তাপমাত্রায় কাঠ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য শক্ত উপাদানে মুহূর্তের মধ্যে আগুনে ভস্ম হয়ে যায়। আর লোহা, স্টিল, টিন গলে যায়। তিনি আরো বলেন, ‘আরডিএক্স বোমা সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে ব্যবহূত হয়েছে। এ ধরনের বোমা বিস্ফোরিত হলে একটি বহুতল ভবন কঙ্কাল হয়ে পড়ে।’

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাভারে নিষ্ক্রিয় করা কেটলি বোমায় আরডিএক্সের পাশাপাশি টিএটিপি (ট্রাইএসিটোন ট্রাইপারক্সাইড) ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কাছে। বোমার কেমিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট (রাসায়নিক পরীক্ষা) হাতে পাওয়া গেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে বোমার বিস্ফোরকের মাত্রা।’