১৭ আগস্ট, ২০২৬
বেলজিয়ামে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। পূর্বাঞ্চলের হাই ফেনস এলাকায় শুক্রবার থেকে জ্বলতে থাকা আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। রোববার আগুনের একটি অংশ জার্মানি সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে বেলজিয়ামের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের দমকলকর্মীরা কাজ করছেন। সেনাবাহিনী, কৃষক এবং নেদারল্যান্ডস থেকে আসা হেলিকপ্টারও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত হয়েছে।
ওয়ালোনিয়া অঞ্চলের প্রশাসনের মুখপাত্র স্টেফানি এরনু জানান, রোববার দমকলকর্মীদের প্রধান লক্ষ্য ছিল জার্মানির দিকে এগিয়ে যাওয়া আগুনের সম্মুখভাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
আগুনের বিস্তার ঠেকাতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের জন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার যেসব বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের আপাতত বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ামের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় দাবানল। এর আগে ২০১১ সালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। এবারের আগুনের পরিমাণ তার দ্বিগুণেরও বেশি।
বেলজিয়ামের এক ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তা করিম বুয়ারফা বলেন, এত বড় দাবানলে বেলজিয়াম আক্রান্ত হবে—এটা তারা কখনো ভাবেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আগুন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে আগুনের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে জার্মানিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় দেশটির মন্সশাউ শহরের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন সরাসরি জার্মান ভূখণ্ডে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম হলেও ব্যাপক ধোঁয়া দূষণ হতে পারে।
বেলজিয়ামের অনুরোধে দাবানল মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তা পাঠিয়েছে। শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি পানি ছোড়ার বিমান পাঠানো হয়।
ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে গাছপালা অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়ায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া আরও ঘন ঘন তৈরি হচ্ছে, যা দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।