১৮ আগস্ট, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে নিজেদের নীতি বদলাবে ইরান। ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান থেকে সরে এসে তারা ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ নীতি গ্রহণ করবে। কূটনীতি ব্যর্থ হলে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙতে একটি নিখুঁত সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের ফলে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাংকার চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। সেখানে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা দেওয়া ছিল, যা সোমবার শেষ হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে চুক্তিটি বেশি দূর এগোয়নি। তেহরানের দাবি, চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জলপথ তাদের পরিচালনার কথা। কিন্তু ওয়াশিংটন তা মানতে রাজি নয়। সমঝোতা না হওয়ায় অনুমোদনহীন পথে চলা জাহাজে ইরান গুলি চালানো শুরু করলে পরিস্থিতি আবার ঘোলাটে হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৭ জুলাই এই চুক্তিকে ‘অতীত’ বলে ঘোষণা দেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি, ইরানকে হারানোর পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার তিনি জানান, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তির শর্তগুলো মানার জন্য অল্প কয়েক সপ্তাহের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। এটি পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের অঞ্চলে তারা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই সময়সীমার কথা ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দেওয়া হবে।