ছাগলনাইয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

১৮ আগস্ট, ২০২৬

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তদের জরিমানাও করেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামের সাকিব (১৮), ইয়াছিন (১৬) ও আরমান (১৫)। তারা টমটমচালক।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন সাকিব, আরমান ও ইয়াছিন। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজন ধর্ষণ করে ফেলে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর সালিশে বসেন। সেখানে অভিযুক্ত তিনজনকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। 

তবে সালিশে দেওয়া এমন শাস্তির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি হয়।এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাতে পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই সালিশের মাধ্যমে নয়, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আলম বলেন, গণধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ সালিশে মীমাংসার সুযোগ নেই। এ কারণে তিনি ওই বৈঠকে অংশ নেননি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।পরে বিষয়টি ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের নজরে এলে মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা করেছেন।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।