এবার প্লেব্যাকের গণ্ডি পেরিয়ে সৃষ্টিশীলতায় আকৃতি কক্কর

১৮ আগস্ট, ২০২৬

হিন্দি গানের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের গানেও দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মন জয় করেছেন গায়িকা আকৃতি কক্কর। কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বেশ পুরোনো। বাংলা ছবিতে একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়া এই শিল্পী সম্প্রতি নিজের সঙ্গীতজীবন, বাংলা গান এবং ভবিষ্যতের ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। 

বাংলা গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক আকৃতি। কোনো গান গ্রহণের আগে তিনি তার কথা, সুর ও সামগ্রিক আবহকে গুরুত্ব দেন। তাঁর কাছে শুধু বেশি গান গাওয়ার চেয়ে ভালো গান করার মূল্য অনেক বেশি। এ কারণেই প্লেব্যাকের পাশাপাশি নিজের গান তৈরি করার দিকেও আগ্রহী তিনি। 

সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গান তৈরির প্রবণতা নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন আকৃতি। তাঁর দাবি, মানুষের তৈরি সঙ্গীতে যে আবেগ থাকে, যন্ত্রনির্ভর সৃষ্টিতে সেই অনুভূতি সবসময় পাওয়া যায় না। এমনকি কোনো গান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কি না, সেটিও মন দিয়ে শুনলেই তিনি বুঝতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

শুধু প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকতে চান না আকৃতি। তাঁর মতে, নিয়মিত সঙ্গীত সৃষ্টি করলেই একজন শিল্পীর নিজস্ব পরিচয় আরও শক্তিশালী হয়। প্লেব্যাকের পাশাপাশি নিজের মতো করে গান তৈরি করার মধ্যেই তিনি শিল্পী হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী পরিচয়ের সম্ভাবনা দেখেন। 

বাংলা গানে আকৃতির যাত্রার পেছনেও রয়েছে বিশেষ গল্প। মুম্বইয়ের একটি পূজামণ্ডপে তাঁর গান শুনে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী চন্দ্রাণী তাঁকে বাংলা গান গাওয়ার জন্য ভাবার কথা জানান। এরপর ‘পাগলু’সহ একাধিক বাংলা ছবির গানে কণ্ঠ দেন তিনি। ছোটবেলায় গুরুর কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ বিভিন্ন ধারার গান শেখার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। 

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওর মাধ্যমে গান দ্রুত জনপ্রিয় হওয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন আকৃতি। তবে তাঁর মতে, সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘদিন শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা গানের পাশাপাশি কলকাতার খাবারের প্রতিও তাঁর বিশেষ টান রয়েছে। কাজ ও সংগীতচর্চার পাশাপাশি ২০২৩ সালে মা হওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায়ও উপভোগ করছেন এই গায়িকা।