১৮ আগস্ট, ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। দুই সন্তানের জননী আহত গৃহবধূ শ্রাবণী আক্তারের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী জমির উদ্দিন সরকার জনিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রায় চার বছর আগে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের গারানাটা গ্রামের ছামছুল ইসলামের মেয়ে শ্রাবণীর সঙ্গে একই উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জমির উদ্দিন সরকার জনির বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন শ্রাবণীর স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা ধরালো অস্ত্র দিয়ে শ্রাবণীর মাথা ও হাতে এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়।
পরদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে আবার পলাশবাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আমিন অলিভ বলেন, আহত শ্রাবণীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও বালিশ চাপা দিয়ে তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জমির উদ্দিন সরকার জনির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযুক্ত জমির উদ্দিন সরকার জনির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা জনিকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, শ্রাবণীর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।