৬ বছরেও শেষ হয়নি ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের কাজ

১৮ আগস্ট, ২০২৬

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ছয় বছরেও শেষ হয়নি ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের নির্মাণকাজ। একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো অসমাপ্ত রয়েছে সড়কের বিভিন্ন অংশ। এতে প্রতিদিন যানজট, ধুলাবালি, কাদা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও বরিশাল অঞ্চলের লাখো মানুষকে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর নাওডোবা প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ২০২০ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৮৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। ২০২১ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। পরে দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণকাজ চলছে। কোথাও সড়কের এক পাশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জাজিরার রসের মোড়, নাওডোবা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদাময় হয়ে পড়ছে। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে শত শত বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করে। নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রীদের সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের অতিরিক্ত জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

বাসচালক ও যাত্রীরা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা জমে যায়। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। ফলে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও সড়কের পাশের বাসিন্দারাও। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও এর সুফল মিলছে না।

শরীয়তপুর জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করে মহাসড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।