১৯ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের হরিয়ানার একটি মেডিকেল কলেজে দুই নারী এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসককে যৌন হয়রানি ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোনিপতের খানপুর কালানে অবস্থিত ভগত ফুল সিং সরকারি মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন ক্যাম্পাসে গত সপ্তাহে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই ইন্টার্ন চিকিৎসককে হয়রানি করা হয়।
ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ একটি মামলা করেছে এবং অভিযুক্ত শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে।
কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই ইন্টার্নকে হয়রানি।খানপুর কালান নারী থানার এক কর্মকর্তা জানান, ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক দায়িত্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন।
পুলিশের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন একটি স্থানে কাজ করা ওই শ্রমিক দুই নারী চিকিৎসককে আলাদাভাবে হয়রানি করেন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তারা পৃথকভাবে যাওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করা হয়।
দুই ইন্টার্নই মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে থাকেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শ্রমিককে ১৬ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৭৪ ও ৭৮ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এসব ধারায় নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে হামলা বা অপরাধমূলক শক্তি প্রয়োগ এবং পিছু নেওয়ার মতো অভিযোগের বিষয় রয়েছে।
নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ঘটনার পর মঙ্গলবার মেডিকেল কলেজের বেশ কয়েকজন এমবিবিএস শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিক্ষোভকারী এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত শ্রমিক দুই ইন্টার্নকে শারীরিক ও যৌনভাবে হয়রানির চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান। কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছিল।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পরদিনও ঘটনাস্থলে কোনো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়নি এবং সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, এমন অনিরাপদ পরিবেশে তাদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা কঠিন।