২০ আগস্ট, ২০২৬
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। আদালতের রায়ের পর সেই জটিলতা কেটে গেছে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ফলে সহকারী শিক্ষকদের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের পিটিআইয়ের কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তন প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নিবন্ধন ছাড়া কোনো কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা যাবে না। নিবন্ধনের সুযোগ সহজ করার পরও কেউ তা না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনিভাবে সব প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি তদারকির আওতায় থাকার কথা থাকলেও এত দিন কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল না। এখন এই ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই, স্কুল খোলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চাই না। তবে নিবন্ধনের সহজ সুযোগ দেওয়ার পরও কেউ তা না নিলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নতুন মনিটরিং নীতিমালায় বিদ্যালয়ের আয়তন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। ছোট পরিসরে বিদ্যালয় পরিচালনা করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সে অনুযায়ী সীমিত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয় তদারকিতে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ইউপিটিসি ইন্সট্রাক্টর ও পিটিআই ইন্সট্রাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে কিছু নিয়োগ ও পদায়ন আটকে থাকলেও শিগ্গির এসব পদ পূরণের কাজ শেষ করা হবে। এতে বিদ্যালয়গুলোর মনিটরিং আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। রায় পাওয়া গেলে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।