তিস্তার ভাঙনে স্কুল নদীগর্ভে, এরপর জিও ব্যাগ ফেলা শুরু

২০ আগস্ট, ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে ‘ভোরের পাখি’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়ের পূর্ব প্রান্ত নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা অবশিষ্ট টিনশেড ঘর ও বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের আশা করেছিলেন স্থানীয়রা। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগকে ‘দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, ভাঙনের ঝুঁকির সময় জিও ব্যাগ ফেলা হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হতো কি না।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্কুলটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি রক্ষায় আগাম কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

জিও ব্যাগ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান মণ্ডল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এখন স্কুলটি নদীতে চলে যাওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এ পরিস্থিতি দেখতে হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, খুব দ্রুত উপযুক্ত স্থানে স্কুলটি সরিয়ে নেওয়া হবে। ভাঙন শুরু হওয়ায় বিদ্যালয়ের সবকিছু খুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, গত সোমবারও সেখানে ভাঙন ছিল না। ভাঙন না থাকলে জিও ব্যাগ ফেলার অনুমতি নেই। এখন যতটা প্রয়োজন হবে, তত জিও ব্যাগ ফেলা হবে।