রেলকর্মীদের ওপর হামলার পর সোনাতলা রেলস্টেশন বন্ধ

২০ আগস্ট, ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় রেলওয়ের সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সোনাতলা রেলস্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় সোনাতলা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টারসহ অন্তত ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। এসময় টিকিট বিক্রির কম্পিউটার ভাঙচুর ও এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন সোনাতলা রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম, চুক্তিভিত্তিক স্টেশনমাস্টার আব্দুল মাজেদ, গ্রেড-২ বুকিং সহকারী মাসুম পারভেজ, পয়েন্টসম্যান সাজ্জাদুর রহমান ও সোয়াইব হোসেন, পোর্টার দুলাল হোসেন এবং রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ।

তাঁরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা গেছে, সোনাতলা রেলস্টেশনের উত্তর পাশে ফাঁকা জায়গায় দুই দিন ধরে একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। মঙ্গলবার সকালে সেখানে গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে এক শ্রমিক স্টেশনমাস্টারকে হুমকি দেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান স্টেশনমাস্টার।

এরই জের ধরে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া রেলওয়ে অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এবং রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে নির্মাণাধীন একটি টয়লেট এবং রেলগেটসংলগ্ন বেশ কিছু অবৈধ ফলের দোকান উচ্ছেদ শেষে কর্মকর্তারা স্টেশন মাস্টারের কক্ষে অবস্থান নেন।

স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম বলেন, উচ্ছেদের কিছুক্ষণ পরই ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল স্টেশনে ঢুকে তাঁর কক্ষের দরজা বন্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। বুকিং কাউন্টারে ঢুকে টিকিট বিক্রির কম্পিউটার ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদকেও মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।

রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন জানান, টয়লেট নির্মাণের কথা বলে স্থাপনা তৈরি করে পরে সেটি দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থাপনা উচ্ছেদের পর সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জন এসে মব সৃষ্টি করে কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

হামলার পর বিষয়টি লালমনিরহাট কন্ট্রোল রুমে জানানো হলে সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশনটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। আকস্মিক স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।

সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু বলেন, ঘটনাস্থলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোনো নোটিশ ছাড়া তা উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, স্টেশনমাস্টার আগে লিজ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ চেয়েছিলেন।

তবে পৌরসভার প্রকৌশলী শাহিন জানিয়েছেন, ওই নির্মাণকাজ পৌরসভার কোনো বরাদ্দের অধীনে ছিল না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আমি অল্প সময়ের জন্য সেখানে ছিলাম, পরে কী হয়েছে জানা নেই।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখবে রেলওয়ে পুলিশ।