ঢামেকে ফেলে যাওয়া মৃত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত, গ্রেপ্তার ৩

২১ আগস্ট, ২০২৬

রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে ফেলে যাওয়া মৃত কিশোরীর পরিচয় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

মৃত কিশোরীর নাম মিম আক্তার (১৫)।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরী তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত।

গ্রেপ্তাররা হলেন এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭), মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫) ও রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯)।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক বার্তায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১২ আগস্ট ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

একই সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অপরাধ ঢাকার উদ্দেশে আসামিরা মিম আক্তারের মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বাসা ছেড়ে রাতারাতি সপরিবারে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছিলেন।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ফেলে যাওয়া কিশোরীর মরদেহের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত কিশোরী তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিহত কিশোরীর কোনো মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইস পাওয়া যায়নি। এমনকি বয়স কম হওয়ায় তার আঙুলের ছাপের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ডিসি জাহিদুল আরো বলেন, পুলিশের একটি টিম গঠন করে খুবই পরিশ্রমের পরে মৃত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত এবং লাশ গুমের চেষ্টায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।