পাবিপ্রবির ৫ শিক্ষকের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

২২ আগস্ট, ২০২৬

গবেষণাপত্রে লেখকস্বত্ব ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি, তথ্যসূত্রের ত্রুটি, চিত্রের ডুপ্লিকেশন, সন্দেহজনক ফলাফল, উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষকের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ায় কারচুপি, গবেষণার তথ্য ও ফলাফলে অসঙ্গতি, প্লেজিয়ারিজম (অন্যের লেখা, গবেষণা, তথ্য, ধারণা, ছবি বা ফলাফল নিজের নামে ব্যবহার করা), একই তথ্য পুনঃব্যবহার এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ও উদ্ধৃতি ব্যবহার করে সাইটেশন বাড়ানোর মতো অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্র ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী ‘রিট্র্যাকশন ওয়াচ’ ডাটাবেইজে অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সঙ্গে পাবিপ্রবির বর্তমান পাঁচ শিক্ষক ও সাবেক এক শিক্ষকের নাম রয়েছে। বর্তমান শিক্ষকরা হলেন- গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তাহমিনা তাসনীম নাহার, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. লোকমান আলী, ইইই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এএইচএম ইফতেখারুল ফেরদৌস এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান। 

সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তথ্য অনুযায়ী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাহমিনা তাসনীম নাহার ও মতিউর রহমানের যৌথ একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। এছাড়া নূর আলম, লোকমান আলী ও ইফতেখারুল ফেরদৌসের একটি করে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের কারণ হিসাবে অনিচ্ছাকৃত রেফারেন্সজনিত ভুলের কথা জানিয়েছেন।

অধ্যাপক লোকমান আলী বলেন, তার ক্ষেত্রে একজন রিভিউয়ারের দুটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের কারণে রেফারেন্সসংক্রান্ত সমস্যার কথা উলে­খ করে প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে জার্নাল কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল করেছেন বলেও জানান। অধ্যাপক তাহমিনা তাসনীম নাহার বলেন, তার গবেষণাপত্রে ভুলবশত একটি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে ভুল রেফারেন্স ব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি জার্নাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সংশোধনের অনুরোধ করলেও তারা গবেষণাপত্রটি প্রত্যাহার করে নেয়।