সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা ১২ দেশের

২২ আগস্ট, ২০২৬

সিরিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে ১২টি দেশ। দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, আলজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, লেবানন, মালয়েশিয়া, মৌরিতানিয়া, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কাতার, সৌদি আরব ও সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান।

তারা হামলাটিকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

গত মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আবু আল-দুহুর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান। হামলায় ঘাঁটির রানওয়ে ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, সিরিয়া ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসরায়েলের আশঙ্কা ছিল, সেখানে তুর্কি সেনা উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

তবে তুরস্ক ইসরায়েলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি জানিয়েছে, হামলার সময় আবু আল-দুহুর ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সেনা ছিল না।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, ঘাঁটিটিতে তুরস্কের কোনো স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল না। সেখানে তুর্কি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও ছিল না বলে জানান তিনি।

তার দাবি, যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার করে সিরিয়ার বিমানবাহিনীর ব্যবহারের উপযোগী করাই ছিল সেখানে চলমান কাজের উদ্দেশ্য। ইসরায়েলি বিমান হামলার সময় ঘাঁটিটি প্রায় খালিই ছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে সিরিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও তুরস্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক ইসরায়েলের এই অভিযানকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এ ধরনের অভিযান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তেমন কোনো ভূমিকা রাখে না।

সূত্র: শাফাক নিউজ