২৪ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ও জরুরি মোকাবিলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি ও স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারির কাজে এসব স্বেচ্ছাসেবককে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে। এ জন্য তাদের আধুনিক পদ্ধতিতে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তিন দিনের সফরে তিনি শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি জানান, এই এলাকায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দার্জিলিং জেলায় ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক যুবক-যুবতীকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার জনের নাম ও যোগাযোগের তথ্য প্রশাসনের কাছে রয়েছে।
বর্ষাকালে পাহাড় ও সমতলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। তবে তাদের দায়িত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না প্রশাসন।
নতুন প্রশিক্ষণের আওতায় উদ্ধারকাজ, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে মানুষ উদ্ধারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ কাজে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকদের স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারির কাজেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেওয়া, দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজে তাদের ব্যবহার করা হতে পারে।
দার্জিলিং জেলায় জলপথে উদ্ধারকাজের জন্য দ্রুতগামী নৌকা ও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামসহ একটি বিশেষ দলও রয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ব্যবহারের জন্য একটি আধুনিক যান রাখা হয়েছে। এতে হাতকরাত, কাটারি, দড়ি, রাবারের জুতা, টর্চসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও একটি আধুনিক উদ্ধারকারী যান আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?
শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। তাই সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিক থেকে এ এলাকার গুরুত্ব অনেক বেশি।
সাম্প্রতিক বৈঠকে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, এলাকাটিকে দখলমুক্ত রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রশাসনের মতে, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে আগামী দিনে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।