২৪ আগস্ট, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শতবর্ষী একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে পড়েছে। রঙিন ফুল, বিস্তৃত ডালপালা আর তীব্র রৌদ্রে স্বস্তির আশ্রয় হিসেবে পরিচিত ছিল গাছটি। তবে বয়সের ভার ও ঘুণপোকার আক্রমণে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারল না।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সত্যেন্দ্রনাথ বসু একাডেমি ভবনের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গাছটি অনেক পুরোনো। আমার যোগদানের পর থেকেই গাছটি দেখছি। কালক্রমে এটা সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।’
ভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৫৪ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজামুদ্দিন নামের এক কর্মচারী এই কৃষ্ণচূড়ার গাছটি রোপণ করেন। ভবনটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই গাছটি আছে। যত্ন, বিস্তৃতি ও সৌন্দর্যে গাছটির কদর সবসময়ই ছিল।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, গাছের সঙ্গে এ ভবনের অনেকের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সবসময়ই কেউ না কেউ গাছের নিচে বসে থাকতেন। গাড়ি পার্ক করা থাকতো। এভাবে ভেঙে পড়বে কেউ কল্পনাই করেনি। ভাঙার পর দেখলাম, ভেতরে পোকা খেয়ে ফেলেছে।
এদিকে ক্যাম্পাসের পুরোনো গাছগুলো আতঙ্কে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, প্যারিস রোডের গগণশিরিসের অধিকাংশ গাছে পোকার আক্রমণ রয়েছে। অনেক গাছের বড় বড় ডাল ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণে তৎকালীন উপ-উপাচার্য হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়। তারা ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করা ও বিকল্প ব্যবস্থার জন্যও কাজও করেন। তবে পরে এসব গাছ আর অপসারণ করা হয়নি।
উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল বলেন, ‘প্যারিস রোডের গগণশিরিস গাছগুলো জীবনকাল শেষ হয়েছে। সেজন্য অনেক গাছ ভেঙে পড়ছে। তবে গাছগুলো কালক্রমে ওই রোড তথা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে। এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভাগের উদ্যোগে একই চারা তৈরি করে রোপণ করা হয়েছে। ঝুঁকি নিরসনের ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ করা যেতে পারে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।