২৫ আগস্ট, ২০২৬
আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বহুল আলোচিত মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
এবারের সম্মেলনে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো অংশ নিচ্ছে। তবে সবার নজর থাকবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দিকে। ইরান চাইছে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে থাকুক। ব্রিকসের সিদ্ধান্ত সবার সম্মতির ভিত্তিতে হয়। তাই বিষয়টি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো বেশ কঠিন হতে পারে।
এবারের ব্রিকস বেশ বৈচিত্র্যময়। রাশিয়া ও চীন কৌশলগত মিত্র। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী। আবার সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও কিউবাসহ বেশ কয়েকটি নতুন দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।
লোহিত সাগরে যেকোনো অস্থিতিশীলতা মিসরের সুয়েজ খালের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, জ্বালানি বাজার নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
আয়োজক দেশ হিসেবে এবারের ব্রিকস সম্মেলনটি ভারতের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। নানা মেরুর দেশগুলোকে এক ছাদের নিচে এনে নিজেদের স্বার্থ ও সবার মতৈক্য ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে বাণিজ্য, উন্নয়ন অর্থায়ন ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে কী বলা হয়, সেদিকেই সবার নজর থাকবে। সব বিভেদ ভুলে বিশ্ব নেতারা একমত হতে পারলে নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।