২৫ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ‘আভাস’-এর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ডাকসুর সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আভাস’-এ স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে পত্রিকার সহ-সম্পাদক আশফাকউল্লাহ আসিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফাহাদ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুহা. মহিউদ্দিন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদ্দীন খান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তারসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতা।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আফসানা আক্তার বলেন, “এই সংখ্যায় আমরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গল্পগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরবর্তী সংখ্যাগুলোতে জুলাইয়ের বিষয়সহ সাহিত্যের অন্যান্য বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
‘আভাস’ প্রকাশে বিলম্বের বিষয়ে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “পত্রিকাটি আরো অনেক আগেই প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।” পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উৎস থেকে অর্থের ব্যবস্থা করে পত্রিকাটি প্রকাশের উপযোগী করতে সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আশা করি বাকি দুই সংখ্যাও শিগগিরই প্রকাশিত হবে। আপাতত শিক্ষার্থীরা ডাকসু থেকে ‘আভাস’ সংগ্রহ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে রকমারি ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে পত্রিকাটি পাওয়া যাবে।”
পত্রিকাটি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সাবিকুন্নাহার তামান্না, আফসানা আক্তার, খন্দকার নূর হোসাইন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসূরী, সায়মুম ফেরদৌস, আশফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদীনের নাম উল্লেখ করেন।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, “ডাকসুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করা। সেই পত্রিকা প্রকাশ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা না থাকলে প্রকাশনাটি আরও আগেই প্রকাশ করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের পত্রিকাটি পড়ার পাশাপাশি লেখালেখিতে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, ‘আভাস’-এ অনেক শিক্ষার্থীর লেখা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতে আরো লেখালেখিতে উৎসাহিত করবে।
ডাকসুর জিএস এস এম ফাহাদ বলেন, “ডাকসু শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং এসব কাজে অর্থ ব্যয় করেছে। তবে যেকোনো কাজ শেষ পর্যন্ত সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে স্থায়ী হয়ে থাকে। সাহিত্যের মাধ্যমেই একটি সময়ের কাজ ও চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।”
‘আভাস’-এর সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, “আশা করি, পত্রিকাটি শতবর্ষ টিকে থাকবে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি তাদের লেখালেখির হাত আরও শাণিত করবেন।”
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “‘আভাস’-এর জন্য প্রায় ছয় শতাধিক লেখা পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে বাছাই করে কিছু লেখা এ সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিপুল আগ্রহ নিয়ে লেখাগুলো জমা দিয়েছেন এবং ডাকসুর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সুন্দরভাবে প্রকাশনাটি প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে।”
“ডাকসুকে তেমন কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এরপরও ডাকসুর প্রায় ২০টি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, শিক্ষার্থীদের এবং ডাকসুর কাজকে বাধাগ্রস্ত করে কিংবা অসহযোগিতা করে আমাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা আমাদের যে জনরায় দিয়েছেন, আমরা তা বাস্তবায়ন করে যাব”, যোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘আভাস’-এর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল লেখালেখিতে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক এবি যুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মনির, সূর্যসেন হল সংসদের ভিপি আজিজুল ইসলাম, জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবীব ইমরোজসহ ডাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।