ইমরানকে ‘বন্ধু’ বলে সেরা চিকিৎসার দাবি কপিল দেবের

২৫ আগস্ট, ২০২৬

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেব। ইমরানকে নিজের ‘বন্ধু’ উল্লেখ করে তার সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে এরই মধ্যে একাধিকবার উদ্বেগ জানিয়েছেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কেরা। তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবরের পাশাপাশি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।

সোমবার পিজিটিআইয়ের ‘রেস টু ডিপি ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমরান প্রসঙ্গে কথা বলেন কপিল দেব। তিনি বলেন, ইমরানের সঙ্গে তারা ক্রিকেট খেলেছেন এবং তার অসাধারণ ক্রিকেটীয় প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইন সম্পর্কে তারা অবগত না হলেও একজন বন্দির মৌলিক মানবিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত।

কপিলের মতে, ইমরান শুধু পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারও। তাই তার জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই মূল দাবি।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে কপিল বলেন, ‘আমরা চাই তিনি যেন সর্বোত্তম চিকিৎসা পান। আমরা আর কিছু চাইছি না, কোনো জবাবও চাইছি না। আমরা শুধু অনুরোধ করছি।’

পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটাররা কেন ইমরানের সমর্থনে প্রকাশ্যে কথা বলছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে তাদের সমালোচনা করতে রাজি হননি কপিল। তার মতে, বর্তমান ক্রিকেটারদের পাকিস্তানেই বসবাস ও ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে হয়। তাই তাদের অবস্থাটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছেন সাবেক ২২ আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কার, দিলীপ ভেংসরকার, ক্লাইভ লয়েড, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যালান বোর্ডার, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট। উদ্যোগটি নিয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক অধিনায়ক ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে প্রথমবার পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইমরানকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করে আবার আদিয়ালা কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তবে তার পরিবার ও আইনজীবীরা এই মেডিকেল পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সাবেক অধিনায়কদের চিঠিতেও দাবি করা হয়েছে, ইমরানের হাসপাতালে থাকার সময় ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে গঠিত একটি দল তার পরীক্ষা করে তাকে সুস্থ ঘোষণা করেছে। অথচ আদালতের নির্দেশ দেওয়া মেডিকেল বোর্ড তখনও তার পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে ইমরানের পরিবার ও আইনজীবী দল।

এই পরিস্থিতিতে কপিল দেবসহ সাবেক ক্রিকেট তারকাদের বক্তব্য ইমরানের চিকিৎসা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো করেছে।