অপহরণের পর সাবেক কর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

২৬ আগস্ট, ২০২৬

কাজ ছেড়ে দেওয়ায় কর্মচারীকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর অটো স্পার্ক নামের এক প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর শাহীন আহমেদ (২৫) নামের ওই কর্মচারীকে রাজশাহী ছাড়া করা হয়েছে। সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে বাসে তুলে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাহীন ঢাকারই বাসিন্দা।  

অটো স্পার্ক রিকন্ডিশন গাড়ির বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি এবং গাড়ির সার্ভিসিং করে থাকে। শাহীন আহমেদ প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান রংমিস্ত্রি হিসাবে তিন বছর ধরে কাজ করছিলেন। দেড় মাস আগে তিনি অটো স্পার্ক ছেড়ে আরশি অটো মোবাইল অ্যান্ড কার হাব নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। পরে অটো স্পার্ক থেকে আরও পাঁচজন কর্মচারী চাকরি ছেড়ে আরশি অটো মোবাইল অ্যান্ড কার হাবে যোগ দেন। এ কারণেই শাহীনের ওপর ক্ষুব্ধ হন অটো স্পার্কের কর্ণধার রাজু আহমেদ। 

ভুক্তভোগী শাহীন জানান, ২২ আগস্ট সন্ধ্যার পর তিনি রাজশাহী মহানগরীর সপুরা এলাকায় নতুন প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করে বের হন। ওই সময় অটো স্পার্কের কর্ণধার রাজু আহমেদ, তার চাচা রুস্তম আলী ও ব্যবস্থাপক মো. শুভ তাকে অনুসরণ করছিলেন। একপর্যায়ে কাছে এসে তারা বলেন, তোমার সঙ্গে কথা আছে। এরপরই তারা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেন। ঠিক এমন সময় সামনে একটি প্রাইভেটকার এসে থামে। গাড়ির ভেতরে ছিলেন কৌশিক, আমির ও ফরহাদ নামের তিন যুবক। গাড়ির দরজা খুলতেই বাইরে থেকে রাজু আহমেদ ধাক্কা দিয়ে শাহীনকে গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে দেন। তারপর তাকে মহানগরীর মেহেরচন্ডি এলাকায় অটো স্পার্কের একটি সার্ভিস সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার ওপর চলে নির্যাতন। 

শাহীনের দাবি, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, অটো স্পার্ক ধ্বংস করতে তিনি নিজে কাজ ছেড়েছেন এবং সঙ্গে আরও পাঁচজনকে নিয়ে গেছেন।  

শাহীন আরও জানান, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে নির্মম নির্যাতন করেন রাজু আহমেদ এবং তার সহযোগীরা। একপর্যায়ে পাঁজরে গুরুতর আঘাত পেলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি বলেন, আমি আর রাজশাহীতেই থাকব না। তখন শারীরিক নির্যাতন বন্ধ হয়। এরপর অটো স্পার্কের দুটি ফাঁকা প্যাড এনে জোরপূর্বক শাহীনের স্বাক্ষর এবং টিপসই নেওয়া হয়। তার মোবাইল ফোনের দুটি সিমকার্ডও খুলে নেন অভিযুক্তরা। এরপর টিকিট কেটে ওই রাতেই তাকে ঢাকাগামী বাসে তুলে দেওয়া হয়। এভাবে শাহীন রাজশাহী ছাড়েন। ঢাকা থেকে তিনি কিছু ভিডিওচিত্র পাঠিয়েছেন যুগান্তরকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা যায়।

ঢাকায় ফিরে চিকিৎসা নেন শাহীন। তবে মোবাইল ফোনে সিমকার্ড না থাকায় তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। নতুন কর্মস্থল আরশি অটো মোবাইল অ্যান্ড কার হাবকেও কিছু জানাতে পারেননি। শাহীনের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরদিন ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সোয়াদ আহমেদ মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে সোয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাহীন সবকিছু জানান। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অটো স্পার্কের কর্ণধার রাজু আহমেদ বলেন, ‘অপহরণ কিংবা নির্যাতনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। শাহীনের সঙ্গে চুক্তি আছে যে, কাজ ছাড়লে ছয় মাস আগে জানাতে হবে। কিন্তু সে কিছু না জানিয়েই চলে গেছে। সে যাওয়ার পরে আরও পাঁচজন কর্মচারীকে নিয়ে গেছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছে।’

তিনি সাদা প্যাডে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন। তিনি জানান, শাহীন মায়ের চিকিৎসার জন্য কয়েক মাসের বেতন অগ্রিম নিয়েছিলেন। এ বিষয়েই প্যাডে তার স্বাক্ষর রয়েছে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের কিছু টাকা জমা না দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তিনি। আর তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি তার।

এ ব্যাপারে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মোস্তারি বলেন, শাহীনের খোঁজ পাওয়া গেছে। তাই নিখোঁজের জিডি নিয়ে এখন আর করণীয় নেই। তাকে শারীরিক নির্যাতনের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। চাইলে শাহীন মামলাও করতে পারেন। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।