২৬ আগস্ট, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি কান্ট্রি সংগীতশিল্পী, গীতিকার, অভিনেত্রী ও মানবহিতৈষী ডলি পার্টন মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ন্যাশভিলে শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ব্যবসা ও মানবসেবায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন ডলি। ‘জোলিন’, ‘৯ টু ৫’ এবং ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো কালজয়ী গান তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়।
১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। ১২ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ছোটবেলা থেকেই গান লেখা ও গাওয়ার প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকে ন্যাশভিলে গিয়ে পেশাদার সংগীতজীবন শুরু করেন।
১৯৬৭ সালে ‘হ্যালো, আই’ম ডলি’ অ্যালবামের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কান্ট্রি সংগীতের জগতে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং বিশ্বজুড়ে তার রেকর্ডের বিক্রি ১০ কোটিরও বেশি ছিল।
১৯৭০ সালে ‘জশুয়া’ গান দিয়ে প্রথমবার কান্ট্রি চার্টের শীর্ষে ওঠেন ডলি। তবে ১৯৭৩ সালের ‘জোলিন’ তাকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও পরিচিত করে তোলে। গানটি পরবর্তী সময়ে কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডলির লেখা আরেক বিখ্যাত গান ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। ১৯৭৪ সালে তার নিজের কণ্ঠে প্রকাশিত গানটি নতুন মাত্রা পায় ১৯৯২ সালে। ‘দ্য বডিগার্ড’ চলচ্চিত্রে গানটির নতুন সংস্করণ গেয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান হুইটনি হিউস্টন।
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও সফল ছিলেন ডলি। ১৯৮০ সালে জেন ফন্ডা ও লিলি টমলিনের সঙ্গে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বড় পর্দায় আলোচনায় আসেন। একই নামের গানটির জন্য অস্কার মনোনয়নও পান তিনি। পরে ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’ ও ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।
এমিলু হ্যারিস, লিন্ডা রনস্ট্যাড, লরেটা লিন ও উইলি নেলসনের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন ডলি। ১৯৮৩ সালে কেনি রজার্সের সঙ্গে গাওয়া ‘আইল্যান্ডস ইন দ্য স্ট্রিম’ বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে ওঠে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে ডলি একাধিক গ্র্যামিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০২২ সালে তাকে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শিল্পীর পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন ডলি। টেনেসির থিম পার্ক ‘ডলিউড’-এর সঙ্গে তার নাম ও উদ্যোগ গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
মানবসেবাতেও ডলির অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তার ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ কর্মসূচি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা গবেষণায় ১০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন তিনি, যা মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা গবেষণায় সহায়তা করেছিল।
ডলির স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। প্রায় ৬০ বছরের দাম্পত্যজীবন ছিল তাদের।
পরিবার জানিয়েছে, ডলির অনুরোধ অনুযায়ী তার শেষকৃত্য হবে ছোট পরিসরে এবং শুধু ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে।
সংগীত, অভিনয়, ব্যবসা ও মানবসেবায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদান রেখে যাওয়া ডলি পার্টনের মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীতজগতে নেমে এসেছে গভীর শোক। তার কালজয়ী গান ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।