২৮ আগস্ট, ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহির অভাবের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ (একাংশ)। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবির কথা জানায় সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার (ক্যাম্পেইন) জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ফি মওকুফের অনুমোদন দিয়েছেন স্বয়ং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন); অথচ ফি মওকুফের এখতিয়ার রাখেন শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্য হলো, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে’। ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায়ের দায়িত্ব প্রশাসনের, অভিযোগকারীর নয়। উপ-উপাচার্যের এমন বক্তব্য দায়িত্বহীনতা, প্রশাসনিক অযোগ্যতা এবং জবাবদিহির অভাবের চরম বহিঃপ্রকাশ বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে পদোন্নতি বোর্ডে অনিয়মের আরেকটি অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষরও করেছেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে কয়েক ধাপ হয়ে বোর্ডে গেলে সেখানকার এক সদস্য অসঙ্গতি চিহ্নিত করে আপত্তি জানালে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংশোধন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসও পার হয়নি। অল্প সময়েই তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।
ছাত্র ইউনিয়নের মতে, প্রশাসনিক পদ এখতিয়ারবহির্ভূত এবং ব্যক্তিগত বিবেচনার জন্য নয়। অথচ বর্তমান উপ-উপাচার্যের কর্মকাণ্ডে বারবার স্বেচ্ছাচারী মানসিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
এ অবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। দাবিগুলো হলো—বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন; পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত সব প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া; এবং তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।