ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনের নির্জন জীবনযাপন

২৯ আগস্ট, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প একাকী নির্জন জীবনযাপন করছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করার পর থেকে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্প নিজেকে জনসমক্ষ থেকে আড়ালে রাখছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যারন তার গ্রীষ্মকালীন ছুটির বেশিরভাগ সময় মা ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টার-এ কাটিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ভিডিও প্রচারের পর তার নির্জন জীবনযাপন নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।

ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছে, ‘সে বাইরে বের হয় না।

’ আরেকটি সূত্র বলেছে, ‘ছেলেটি বেশ একাকী স্বভাবের হয়ে গেছে।’ ব্যারন জনসমক্ষে মানুষের নজরে পড়তে পছন্দ করেন না এবং তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। কোনো পাবলিক প্লেসে থাকলে তিনি দ্রুত কোনো ব্যক্তিগত বা নিরাপদ স্থানে চলে যান বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি আরো বলেছে, ‘আপনি তাকে বাইরে কোথাও ঘোরাঘুরি করতে দেখবেন না।

নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্যমতে, ব্যারন রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এবং তার ওপর হওয়া হামলার ঘটনায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ব্যারন নিজেই তার বাবাকে ফোন করে সেই খবরটি দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘বাইরে বের হলে ঠিক এটাই ঘটে।’

মেলানিয়ার কার্যালয় থেকে সংবাদমাধ্যমটিকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হুমকির বিষয়টি বিবেচনা করে তার  ব্যক্তিগত জীবন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য যেন সব ধরনের সংবাদ কাভারেজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। ফার্স্ট লেডি তার ছেলের ব্যাপারে অত্যন্ত সুরক্ষামূলক এবং ছেলের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্তকে তিনি শ্রদ্ধা জানান।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ যখন শেষ হয়েছিল এবং ব্যারন যখন তার সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা হারাতে যাচ্ছিলেন, তখন ফার্স্ট লেডির কার্যালয় থেকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

তারা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে ব্যারনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান। বাইডেন প্রশাসন সেই অনুরোধটি গ্রহণ করেছিল।

মেলানিয়ার একটি প্রামাণ্যচিত্রের এক অংশে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের বলছেন, ‘আমি জানি ব্যারন বাইরে যাবে না। আর আমি ওর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’ ট্রাম্পের অভিষেকের প্যারেড পরিকল্পনার সময় এই আলোচনা হয়েছিল, যেখানে ফার্স্ট ফ্যামিলির পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ ধরে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিল। অবশ্য পরবর্তীতে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সেই পরিকল্পনাটি ঘরের ভেতরে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

গত সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইআরআইবি’র ৩ নম্বর চ্যানেলে ৩ মিনিটের একটি ভিডিও প্রচারিত হয়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা উচিত?’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস-আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনে ব্যারনের বাসস্থান, তার বিশ্ববিদ্যালয়, তার প্রাত্যহিক যাতায়াতের পথ এবং মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। ভিডিওর প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয় যে, ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কোন সংস্থা বা কারা এই পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ঠিক এক মাস আগে ব্যারন ট্রাম্পের মা এবং মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে হুবহু একই ধরনের একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করেছিল করেছিল আইআরজিসি সম্পৃক্ত তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

তবে বৃহস্পতিবার লেবাননের আল মানার টিভির সম্প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেন, ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলেকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

ইউএস সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত আছে। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং বলেন, ‘ইউএস সিক্রেট সার্ভিস ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং আমাদের সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রতি হুমকি হিসেবে গণ্য হতে পারে এমন যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে দেখে।’ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপারেশনাল নিরাপত্তার স্বার্থে সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষামূলক গোয়েন্দা তথ্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে না।