৩০ আগস্ট, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রবিবার নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপের আওতায় এ টার্মিনাল নির্মাণ করছে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। তারা ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি ৩০ বছর লালদিয়া টার্মিনাল পরিচালনাও করবে। সম্পূর্ণ বিদেশি বিনিয়োগে এটিই দেশের প্রথম টার্মিনাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, লজিস্টিকস, ট্রেড ফ্যাসিলিটজ এবং এই এলাকাসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের দিক থেকে টার্মিনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ২০৩৪ সালের মধ্যে যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা বলেছি, এই প্রকল্প তার একটি মাইলস্টোন হিসেবে কাজ করবে।
কোনো সরকারের একার পক্ষে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বেসরকারি বিনিয়োগ। তারই একটি উদাহরণ লালদিয়া টার্মিনাল। অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের দিক থেকে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও আমি আশাবাদি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, লালদিয়া ছাড়াও চট্টগ্রামে আরও কয়েকটি বন্দর হতে যাচ্ছে। আমরা ফ্রি-ট্রেড জোন করছি চট্টগ্রামে। এখানে আমাদের অনেকগুলো ইপিজেড হয়েছে, আরও হবে। চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।
সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের যে সম্ভাবনা, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সেই পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিক করার যে অগ্রযাত্রা তা এখানেই শেষ হবে না। এটা চলমান থাকবে। আরও কয়েটি বন্দর নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠিত, অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে। সেই জায়গায় দেশের স্বার্থ, দেশের অর্থনীতি ও দেশের বাণিজ্য বিবেচনা করে আমাদের সাথে আলোচনা চলছে। আমি মনে করি দেশের অর্থ ও বাণিজ্যকে প্রসারিত করার জন্য যেখানে যাকে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা যায়, সেটা করতে সরকার সক্ষম হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। যে প্রতিষ্ঠানটি লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করতে যাচ্ছে, তা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শিপিং কমিউনিটিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। এর সুফল জাতি হিসেবে আমরা পাব।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড।
জানা গেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ নির্মাণকাজ শেষে বছরে ৯ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করবে এ টার্মিনাল। জেটিতে ভিড়তে পারবে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট ও ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ। ২৪ ঘণ্টা জাহাজ আনা নেওয়া করা যাবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এপিএম টার্মিনালস থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে এককালীন। বছরে পাবে আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি। কনটেইনার প্রতি পাবে ২৩ ডলার।