ইমরান খান ইস্যুতে ক্রিকেটারদের মুখ বন্ধ রাখতে বলল পিসিবি

৩১ আগস্ট, ২০২৬

কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করতে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সতর্ক করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। চলমান ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতেই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে ইমরান খানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়। ম্যাচের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসে ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমানের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক আথারটনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বাবার কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তারা।

ওই সাক্ষাৎকার প্রচারে আপত্তি জানিয়েছিল পিসিবি। এমনকি সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হলে পাকিস্তান দল ম্যাচের পরবর্তী সেশনে মাঠে নাও নামতে পারে—এমন হুমকি দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। তবে পরে পাকিস্তান দলের কোচ সারফরাজ আহমেদ বিষয়টি অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, দল এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনার বিষয়ে অবগত ছিল না।

এরপরই ইমরান খানকে নিয়ে ক্রিকেটারদের প্রকাশ্যে কথা বলার বিষয়ে সতর্ক করে পিসিবি। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, বোর্ডের আশঙ্কা, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা এ বিষয়ে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বারবার প্রশ্ন করতে পারেন। ফলে ক্রিকেটের বাইরে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে দল।

পিসিবির এই অবস্থানের পেছনে যুক্তরাজ্যের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স চার্লসের দেওয়া একটি সংবর্ধনায় পাকিস্তান দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাসকর ও কপিল দেবসহ ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা ইমরান খান বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। তার দল ও তিনি এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরীক্ষার পর আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ইমরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এ বিষয়ে নীরব থাকার পিসিবির নির্দেশ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।