৩১ আগস্ট, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও পারমাণবিক শক্তি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া।সোমবার (৩১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বৈরী নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও অভিযুক্ত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সংঘাতপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখার অভিযোগ তুলেছেন।
এই অভিযোগের কারণ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ‘পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’-এর ওপর জোর দেওয়া, দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সাথে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা স্বার্থকে নির্বিচারে লঙ্ঘন করার বিষয়ে তাদের চিরস্থায়ী ও বৈরী নীতিকেই পুরোপুরি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রগুলো তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বারবার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবির মুখে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতার অবস্থান কোনোভাবেই দুর্বল হবে না। আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের কোনো আশা করাটা অর্থহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার নীতিতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি।
চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার পরিসর কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়ার পর এই বিবৃতিটি এল।
ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে তার খুব ভালো সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই মহড়াগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এর মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বৈরী বার্তা পাঠানো হয়।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ার নেতার সাথে নতুন একটি শীর্ষ বৈঠকের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে তিনবার বৈঠক হয়েছিল।
মহড়ার পরিসর কমানো সত্ত্বেও, উত্তর কোরিয়ার নেতার বোন কিম ইয়ো জং চলতি মাসে মন্তব্য করেছেন, মহড়ার আকার ও সময়কাল কমানো হলেও এগুলো উসকানিমূলক ও আগ্রাসীই রয়ে গেছে। এর বাইরে সিউলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ফ্রিডম এজ’ নামে একটি যৌথ মহড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হবে।
উত্তর কোরিয়া বারবারই এই ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়ে আসছে।