আবারও ভারতে চলন্ত বাসে কিশোরীকে গণধর্ষণ চালক ও হেল্পার গ্রেফতার

৩১ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় চলন্ত বাসে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও তার সহযোগীকে (কন্ডাক্টর) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ধর্ষণের পর কিশোরীকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট রাতে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সঙ্গে ২০১২ সালের দিল্লির বহুল আলোচিত ‘নির্ভয়া’ মামলার কিছু মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বাসচালক ৩৯ বছর বয়সী কুলদীপ এবং ২৬ বছর বয়সী কন্ডাক্টর সন্দীপ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিনই দিল্লির উত্তরাঞ্চলের তিমারপুর এলাকার একটি পার্কিং থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযুক্ত দু’জনই বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান বিশ্বনাথ ট্রাভেলসের হয়ে কাজ করতেন। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর দাবি, তারা প্রায় দুই বছর ধরে সেখানে কর্মরত ছিলেন।

বৃষ্টির রাতে একা কিশোরী
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে কিশোরী জানিয়েছে, পড়াশোনা নিয়ে মায়ের বকাঝকার পর পরিবারের কাউকে না জানিয়েই সে নয়ডায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের মইনপুরি থেকে যাত্রা করে সে গ্রেটার নয়ডার পারি চকে নামে। তখন প্রবল বৃষ্টি ও চারপাশে অন্ধকার ছিল। পারি চকে নামার পর সে বুঝতে পারে, এখনও তার গন্তব্যে পৌঁছা হয়নি। তখন রাত প্রায় ৯টা।

কিশোরীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার আত্মীয়ের বাড়ি তখনও প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। বৃষ্টিতে ভিজে একা অবস্থায় সে সেখানে যাওয়ার জন্য একটি যানবাহনের অপেক্ষা করছিল।

এ সময় একটি বাস তার কাছে এসে থামে। বাসটি ছিল দূরপাল্লার ‘স্লিপার’ বাস, যেখানে যাত্রীদের শোয়ার জন্য বার্থ ছিল। তবে তখন বাসটিতে কোনও যাত্রী ছিল না।

পুলিশের ভাষ্য, বাসের কন্ডাক্টর কিশোরীকে বলেন, তারাও নয়ডা সেক্টর-৬৩-এর দিকে যাচ্ছেন। এ কথা বিশ্বাস করে কিশোরী বাসটিতে ওঠে।

তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাসটি আসলে গ্রেটার নয়ডার সূরজপুর এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছিল এবং সেক্টর-৬৩-এর দিকে যাচ্ছিল না।

বাস চলার পরই হামলার অভিযোগ
কিশোরীর অভিযোগ, বাস চলতে শুরু করার পরপরই কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অসদাচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। অভিযোগ, সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়।

পরে চালক ও কন্ডাক্টর দু’জন মিলে তাকে যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করেছে কিশোরী।

পুলিশ জানিয়েছে, বাসটির ভেতরে যাত্রীদের শোয়ার বার্থগুলো পর্দা দিয়ে আলাদা করা ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা এই পর্দার আড়ালকে কাজে লাগিয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর অভিযুক্তরা কিশোরীকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। গ্রেটার নয়ডা থেকে ওই স্থানটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে।

ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলেছে চুল
ঘটনার পর কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের সন্ধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

তদন্তের অংশ হিসেবে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। ফরেনসিক দলের সদস্যরা বাসটি পরীক্ষা করে ভেতর থেকে কিশোরীর চুলের গোছা পেয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এছাড়া বাসটি যে পথে চলাচল করেছিল, সেই রুটের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে তদন্তকারীরা। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাসটির গতিবিধি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাটি ভারতে নারীর নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনে নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্জন বা যাত্রীশূন্য যানবাহনে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরিবহনকর্মীদের যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: এনডিটিভি