চরফ্যাশনের ফিরোজের লাশ ফেরাতে জটিলতা

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ধারদেনা ও সুদের টাকা মাথায় নিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কিন্তু সে স্বপ্ন আজ একবুক কান্নায় পরিণত হয়েছে। প্রবাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা যান ভোলার চরফ্যাশনের চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের ফিরোজ আলম নামের এক যুবক। 

মৃত ফিরোজ ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

তবে শোকের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এক চরম অনিশ্চয়তা-আইনি জটিলতা আর আর্থিক অনটনের কারণে প্রিয়জনের লাশটি আটকে আছে বিদেশের মাটিতে। শেষবারের মতো লাশটি একটু দেখার জন্য এবং দেশের মাটিতে দাফন করার আকুল আবেদন জানিয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে নিঃস্ব পরিবারটি। 

মৃতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন দিশেহারা। মৃতের বৃদ্ধ বাবা, মা ও স্ত্রীসহ দুই সন্তানের কান্না যেন থামছেই না। 

কাঁদতে কাঁদতে নিহতের স্ত্রী বলেন, ‘তিনি আমাদের সুখের জন্য অবৈধ পথে অনেক কষ্ট সহ্য করে বিদেশ গিয়েছিলেন। এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমরা শুধু তার লাশটি ফেরত চাই। সন্তানরা যেন শেষবারের মতো বাবার মুখটা দেখতে পারে।’   

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ও জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফিরোজ আলম। সেখানে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও তিনি একটি ভবনের ছাদ ঢালাইয়ে অংশ নেন। কাজ করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত উঁচু ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও যোগাযোগ করা হবে।