০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে নৌ-পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি বেলুয়ানদীতে দৈহারী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে একটি কাঠবডির ট্রলার থেকে মাংসসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল (৪১) এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া মাঝির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
দৈহারী পুলিশ ফাঁড়ির নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে উপজেলার বেলুয়া নদীর ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কাঠবডির ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস বহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল ও বাবুল ফরাজিকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনার অভিযোগ রয়েছে। কাঠবোঝাই, গোলপাতাবোঝাই এমনকি মাছ ধরার ট্রলারেও এসব মাংস পরিবহণ করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন স্থানে থাকা কথিত চোরাকারবারিদের কাছে এসব মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে হরিণের মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন গ্রেফতার হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, চোরাই পথে আনা এসব মাংসের একটি অংশ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করায় পচা অবস্থায় বাজারজাত করা হয়। আবার কখনো হরিণের মাংসের সঙ্গে শিয়ালের মাংস মিশিয়ে গোপনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নেছারাবাদ থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে দুজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।