০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চলতি বছরের আগস্ট মাসে সারাদেশে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সারাদেশে নদী, খাল, জঙ্গল থেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৮৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস’ এক সংবাদি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ১৬ টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার কমপক্ষে ৫৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২ জন।
সারাদেশ নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে হত্যাকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট মাসে সারাদেশ নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে পরিকল্পিত বা অপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ৮২টি ঘটনায় ৮৭টি লাশ উদ্ধার হয়েছে।
এর মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১২ টি, ঝুলন্ত অবস্থায় ১৭ টি, শরীরে একাধিক আঘাতসহ ২৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গলা কেটে হত্যা ৯ টি, হাত-পা বাঁধা ৮ টি লাশ পাওয়া গেছে।
এর বাইরে নানা ধরনের পরিস্থিতিতে আরও ১৫ টি লাশ পাওয়া গেছে।
সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনা বলা হয়, আগস্ট মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৮ টি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় নিহত হয়েছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ জন, যাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে হয়েছেন ৩ জন। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৫ জনকে পুশইন এবং ১৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের একজন বাংলাদেশি যুবক নিহত, ১ জন আহত ও ৩ জনকে জলসীমা থেকে আটক হয়েছে।
শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে অন্তত ৮৪ টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৭ জন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৩ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। এ ছাড়া পৃথক দুইটি ঘটনায় ২ জন গৃহকর্মীর মৃত্যু ও ১ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এ মাসে ২৪৯ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট মাসে কমপক্ষে ২৪৯ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন, যাদের মধ্যে ৪৬ (৫৮%) জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। ১৮ জন নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৯৩ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ৩৮ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৬ জন, আহত হয়েছেন ৭ জন নারী এবং ১ জন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৪৯ জন, আহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন নারী।
২৮২ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২০৫ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।