রোগী হয়রানি কমাতে রামেকে স্থাপন হচ্ছে 'অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার'

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে আগত রোগীদের পরিবহনব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব করতে অনুষ্ঠিত এ সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ও চালকদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. হাসানুল হাছিব।

সভায় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এ সরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে আগত রোগীদের পরিবহনে নিয়োজিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ির পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রোগীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমানো এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রবেশমুখে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে রামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রস্তাবিত এ সেন্টারের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আরএমপির তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও চালকদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্সগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী এবং রোগীর গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনায় নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়ায় রোগী পরিবহন এবং লাশবাহী গাড়ির সেবা দেবে। এর ফলে রোগীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ কমার পাশাপাশি জরুরি বিভাগের সামনে অপ্রয়োজনীয় যানজট নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সভায় রোগীদের সুবিধার্থে ট্রলি ব্যবস্থাপনা, অতিবৃষ্টির সময় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সামনের সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসন এবং তাৎক্ষণিক করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় রামেকহা’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক ও উপপরিচালক, রামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, কোষাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মুর্শেদ জামান মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, রামেক হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ শামীম আহমেদ, সহকারী পরিচালকবৃন্দ, ইএমও ইনচার্জ, উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক, নার্সিং কো-অর্ডিনেটর, ওয়ার্ড মাস্টারবৃন্দ, রামেকহা পুলিশ বক্সের ইনচার্জ, আনসার ক্যাম্প ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরএমপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী, উপপুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো. গোলাম রাব্বানী শেখ, রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষে ডা. আয়েশা উপস্থিত থেকে রোগীদের স্বার্থে গৃহীত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের প্রতিনিধিত্ব করেন মো. নিশান, মো. ডালিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। তাঁরা রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আরএমপির গৃহীত যৌক্তিক সব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

সভায় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলাম গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয়, আন্তরিক ও সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, রোগীর স্বার্থই সব পক্ষের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভায় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সমন্বিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে রামেক হাসপাতালে রোগীবান্ধব অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।