নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরির কারখানার সন্ধান

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। 

শনিবার মিরপুর-১-এর গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘কৃষিবিদ সিড লিমিটেড- সিড প্রসেসিং সেন্টার’-এ অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়। 

সূত্র জানায়, এই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ৮-১০ ব্রান্ডের নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরি করা হতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং র‍্যাব-৪ যৌথভাবে এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে। 

সাংবাদিকদের শুল্ক গোয়েন্দার অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের সাথে দেশের স্বীকৃত সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মোড়ক তৈরির কোন চুক্তি নেই। কিন্তু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর জনপ্রিয় ব্রান্ড বেনসন, স্টার, ডার্বির তৈরি মোড়ক পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এ কারখানায় নকল সিগারেট উৎপাদনের তথ্য ছিল। কিন্তু অভিযানে সিগারেট তৈরির মেশিন সরানোর আলামত পাওয়া গেছে। 

তিনি আরও বলেন, নকল মোড়কসামগ্রী তৈরির মাধ্যমে সরকারকে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত করছে। ইউনিক টোব্যাকো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের খোজ পাওয়া গেছে। কিন্তু এনবিআরের কাছে এই নামের কোন সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেই। তার মানে নকল সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এ কারখানা খোজার কাজ চলবে। 

কাস্টমস গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক কাজী আল মাসুম জানান, কারখানা থেকে প্রচুর পরিমাণ তৈরি ও অর্ধ-প্রস্তুত নকল সিগারেট, সিগারেট তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল, বিশ্বমানের ও স্থানীয় ব্যান্ডের নকল প্যাকেজিং সামগ্রী এবং আধুনিক উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথি ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত সমস্ত আলামত, প্রস্তুতকৃত সিগারেটের পরিমাণ, কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতির সঠিক তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি এবং প্রতারণার দায়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।