০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পাঁচ দিনের সফর শেষে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীর ৫ হাজার সদস্যের দলটি যাত্রাবিরতি শেষে ব্যাংককের পাতায়ার শহর ছেড়ে গেছে। তবে মার্কিন বাহিনী কোথায় রওনা হয়েছে তা জানা যায়নি। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিমানবাহী রণতরী নিয়ে সেখান থেকে রওনা হয়েছেন বলে এএফপি-র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
এর আগে গত বুধবার মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য পাঁচ দিনের ব্যাংককের কাছে পর্যটন শহর পাতায়ার ঠিক উত্তরে নোঙর করেছিল মার্কিন সেনারা।
থাইল্যান্ডে পর্যটনের ‘অফ-সিজন’ থাকায় এ সময়ে তাদের আগমনেপাতায়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। সমুদ্রসৈকত ও নৈশজীবনের জন্য পরিচিত এই শহরটি যৌন পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, পাতায়া থেকে আধা ঘণ্টার পথ দূরে অবস্থিত ‘লেম চাবাং’ বন্দর থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে লিংকন রণতরীটি রওনা হয়। সফরকালে পাতায়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল এবং নাবিকদের আগমনের আগে কর্তৃপক্ষ যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
যদিও শহরের মেয়র এর সাথে নাবিকদের আগমনের কোনো যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এই যাত্রাবিরতি বা বন্দর-সফরটি মূলত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাতায়ার পুলিশ প্রধান আনেক স্রাথংইউ এএফপিকে বলেন, সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম দিন আমেরিকানদের নিজেদের মধ্যে একটি তর্ক-বিতর্ক ছাড়া আর কোনো গ্রেফতার বা ঝগড়ার ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ প্রধান এর আগে জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে পাতায়ার নৈশজীবনের কেন্দ্রস্থল ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এর কাছে মদ্যপ অবস্থায় ঝগড়ায় জড়ানোর পর মার্কিন নৌবাহিনী দুজন নাবিককে আবার লিংকন রণতরীতে ফেরত পাঠিয়েছিল।
গত মাসে খাদ্য সংকট, ত্রুটিপূর্ণ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের খবর প্রকাশের পর মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা লিংকন রণতরীর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেননি। যদিও এই বিষয়গুলো ইরানের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছিল। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে লিংকন রণতরীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’।
পাতায়ার মেয়র পোরামাস এনগাম্পিচেস জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে এই সফরের সময় মার্কিন নাবিকরা ১০ কোটি বাথ (৩০ লাখ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত অর্থ ব্যয় করেছেন। পোরামাস এএফপিকে জানান, এছাড়া টুথপেস্টের মতো অন্যান্য সামগ্রী জাহাজটিতে বিক্রি করেও শহরটি লাভবান হয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য ছিল কয়েক মিলিয়ন বাথ (বা কয়েক হাজার ডলার)।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মোতায়েন থাকাকালীন সময়ে ‘লিংকন’ জাহাজের নাবিকদের টুথপেস্ট, সাবানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রসাধন সামগ্রীর ঘাটতিতে পড়তে হয়েছিল। পোরামাস জানান, অনেক নাবিক ও মেরিন সেনা থাইল্যান্ডের উপকূলে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে সময় কাটিয়েছেন।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বোঝা যায় তারা তাদের পরিবারের অভাব বোধ করছেন এবং তাদের জন্য কিছু স্মারক বা উপহার কিনতে চাইছেন।