২১ অক্টোবর, ২০২১
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক। বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের কারণে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহর হতে ক্যাম্পাসগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহুল ব্যবহৃত সড়কটি পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে।
ফলে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। তবুও ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাঁদের। দীর্ঘদিন থেকেই সড়কটির সংস্কার দাবি করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার এ দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইবি ছাত্র মৈত্রী। বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে সড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এ সময় 'সড়ক যেন মৃত্যুকূপ, পিছু ছুটে মৃত্যুদূত', 'কুষ্টিয়া-ক্যাম্পাস রাস্তার দূরাবস্থা, কবে হবে সুব্যবস্থা?, 'জনদুর্ভোগ দূর করতে সড়ক সংস্কার চাই' সহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে বক্তারা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াতকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবি করেন।
এর আগে একই দাবিতে গতকাল বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যার শিক্ষার্থীদের বাঁধা দিলে তাদের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ফেসবুক লাইভে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে আরো কয়েকশ শিক্ষার্থী অবরোধে যোগ দেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে সড়কে ইট, বাঁশ ফেলে অবস্থান নেন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা। এ সময় সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ প্রশাসনের সাথে আলোচনার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জি কে সাদিক বলেন, ‘আমাদের সকলের দাবি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার করা হোক। এই রাস্তায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। আগামী ২৫ অক্টোবর আমাদের ক্লাস শুরু হবে। এতে করে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।’
অবরোধে আটকে থাকা গাড়ি চালক জামিল রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। এই রাস্তায় চলাচলের ফলে আমাদের গাড়ির অনেক ক্ষতি হয়। গাড়ি সারাতেও অনেক টাকা খরচ হয়। অতি দ্রুত এই সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আমি অনেকবার পার্শ্ববর্তী জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি কিন্তু তাঁরা আমাদের দুর্ভোগকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমাদের গাড়িগুলো প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে। ফলে খরচও বাড়ছে। আমি তাদের এতবার জানিয়েছি, এখন আর আমার ফোনই রিসিভ করেন না।'
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, 'সড়কটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে বর্ষাকাল থাকায় মাঝে কিছুদিন আমরা কাজ করতে পারিনি। এখন আবারো কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি আগামী দেড় মাসের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ হবে।'