০৫ জুন, ২০২২
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে শনিবার রাতে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরেকজন কর্মী।
নিহত আব্দুল মতিন (৪২) সাঁথিডা উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে। তিনি নাগডেমরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের চাচাতো ভাই ছিলেন। মতিন কৃষিকাজ করতেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন।
আহত জুয়েল একই গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের আপন ছোট ভাই। তিনিও আ.লীগের কর্মী।
স্থানীয়রা জানান, নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, বর্তমান আ.লীগ থেকে বহিষ্কৃত) এবং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে প্রায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে আসছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের ছোট ভাই জুয়েল ও তার চাচাতো ভাই মতিন শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, সাঁথিয়া পৌর সদরের আউলাঘাটা ঘোনারচরে ইছামতি নদীর পাড়ে বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই মতিন মারা যান। এ সময়ে জুয়েল ইছামতি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও সন্ত্রাসীদের হামলায় মতিন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সেখান থেকে মতিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিএমসিএইচ মর্গে পাঠায়। ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডটি ঘটেছে।
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের সন্ত্রাসীরা আমার চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। মতিন আ.লীগের কর্মী ছিলেন। অবিলম্বে হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর সদরে। এতে আমার কিছু করার নেই। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সাঈদ নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ও আহত দু’জনকেই আওয়ামী লীগ কর্মী উল্লেখ করে সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোওয়ার বলেন, আমরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সে সাথে তদন্তের সময় যেন কোন নিরহ মানুষ অহেতুক হয়রানির শিকার না হয় এবং লুটপাটের ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে পুলিশকে নজর রাখতে অনুরোধ করছি।’
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছেন।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান ওসি সিদ্দিকুল।