পুতিনের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার কোনো প্রমাণ নেই : সিআইএ

২১ জুলাই, ২০২২

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়েছে এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক।

বেশ কিছুকাল ধরে সংবাদমাধ্যমে জল্পনা চলছে যে পুতিন সম্ভবত ক্যান্সারের মতো কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু এসব খবর কখনোই নিশ্চিত করা যায়নি।

সিআইএ’র পরিচালক উইলিয়াম বার্নস বলেন, এরকম কিছু বলার মতো কোনো প্রমাণ নেই। তিনি ঠাট্টা করে বলেন, পুতিনকে দেখে মনে হয় তার স্বাস্থ্য ‘খুব বেশি রকমের ভালো’।এ বছরই ভ্লাদিমির পুতিনের বয়স ৭০ পুরো হতে যাচ্ছে। তার ভগ্ন স্বাস্থ্যের খবর আবারো উড়িয়ে দিয়ে ক্রেমলিন বলেছে, ‘এসব রিপোর্ট ভুয়া ছাড়া কিছুই নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে অ্যাসপেন নিরাপত্তা ফোরামে বার্নস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক গুজব রয়েছে। তবে আমরা যতটুকু বলতে পারি, তাতে মনে হয় তার স্বাস্থ্য খুব বেশি রকমের ভালো।’ক্রেমলিনও এ সংক্রান্ত গুজব উড়িয়ে দিয়েছে।

পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বৃহস্পতিবার রিপোর্টারদের বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয়, আমেরিকান ও ব্রিটিশ কিছু তথাকথিত তথ্য বিশেষজ্ঞ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে বেশকিছু গুজব ছড়িয়েছে। কিন্তু এগুলো ভুয়া খবর ছাড়া আর কিছুই নয়।’সিআইএ’র পরিচালক বার্নস একসময় মস্কোতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি বলেন, তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুশ নেতাকে দেখে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘পুতিন নিয়ন্ত্রণ, ভীতি প্রদর্শন এবং সমুচিত প্রত্যুত্তর দেয়ায় বিশ্বাসী’ এবং গত এক দশকে তার মধ্যে এ প্রবণতাগুলো আরো জোরালো হয়েছে, তার উপদেষ্টাদের চক্রটি আরো ছোট হয়ে এসেছে।

বার্নস বলেন, ‘পুতিন স্থির নিশ্চিত যে রাশিয়ার নেতা হিসেবে তার লক্ষ্য হচ্ছে দেশটিকে একটি বৃহৎ শক্তিধর দেশ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। তিনি বিশ্বাস করেন, এটা করতে হলে রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে একটি প্রভাব বলয় সৃষ্টি করতে হবে এবং ইউক্রেনকে নিয়ন্ত্রণ না করে তিনি এটা করতে পারবেন না।’রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযানের পরিকল্পনা করছে এমন গোয়েন্দা তথ্য পাবার পর গত বছর নভেম্বরে বার্নস মস্কো সফরে গিয়েছিলেন।

‘সেখানে যাওয়ার সময় তিনি যতটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন, ফেরার সময় তিনি তার চেয়েও বেশি উদ্বেগ নিয়ে ফিরেছিলেন,’ বলেন বার্নস।তিনি বলেন, কিছু ‘গুরুতর ভুল অনুমান’ এবং ইউক্রেনের ব্যাপারে কিছু ‘প্রকৃত বিভ্রমের’ ওপর ভিত্তি করে রুশ প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল।

সিআইএ’র পরিচালক বলেন, ‘পুতিন তার বাগাড়ম্বরে যা বলেন তা সত্যি সত্যি বিশ্বাস করেন। আমি তাকে ব্যক্তিগত কথাবার্তার সময়ও বলতে শুনেছি যে ইউক্রেন প্রকৃতপক্ষে কোনো দেশ নয়।’বার্নস বলেন, ‘তিনি যাই বলুন, প্রকৃত দেশ হলে তা পাল্টা লড়াই করে এবং ইউক্রেন ঠিক তাই করেছে।’

সূত্র : বিবিসি