২৯ আগস্ট, ২০২২
আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের ভাইভায় এক ছাত্রীকে হেনস্তা ও হুমকির ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবা সিদ্দিকা। সোমবার (২৯ তারিখ) হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এর আগে গত শনিবার হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ এনে প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, গত ২৩ তারিখ বোরকা পড়ে ভাইভাতে অংশ নিলে হেনস্তার শিকার হন তিনি। পরে বিষয়টি তার পরিচিত এক ছাত্রলীগকর্মীকে জানালে তার মাধ্যমে অন্য আরেক ছাত্রলীগকর্মী শিক্ষিকা ফোন দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দ্বিতীয় দফায় ডেকে হেনস্তা ও হুমকি দেন ওই শিক্ষিকা।
ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে ওই শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, 'এই তোমার বাবা কী করে? তোমার এলাকার মেয়র টিটু ভাইরে চিনো? বইল্লা (বলে) উঠাই একদম পুইত্তা দিমুনে। আমার বাড়ি কোথায় জানো? আমার শ্বশুর বাড়ি কোথায় জানো? আমার সম্পর্কে জানো? আমি রোকেয়া হল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আমার নাম মাহবুবা সিদ্দিকা, চিনো তুমি আমারে? আমি কত পাওয়ার চালাইছিলাম তুমি জানো? এলাকায়ও টিকতে পারবা না।’
অডিওটির বিষয়ে মাহবুবা সিদ্দিকা বলেন, 'আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানিনা। আমি কোন অডিও দেখিনি।' ছাত্রীর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'অনাঙ্ক্ষিত একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ওই ছাত্রীর সঙ্গে গতকাল আমাদের দেখা হয়েছে। প্রক্টর স্যার, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রভস্ট ম্যাম ছিলেন। ওই ছাত্রী দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে। আমরাও বলেছি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, এজন্য দুঃখপ্রকাশ করেছি। বিষয়টি সমাধান হয়েছে।'
এদিকে হুমকি ও হেনস্তার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপল সমালোচনা শুরু হয়। অডিওটি যুক্ত করে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যে নিন্দা ও সমালোচনা করেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনা করেন অনেকে।
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন নামক ফেসবুক পেজে একটি ছবি যুক্ত করে লেখা হয়েছে 'ইবির সাবেক ছাত্র হিসাবে এই শিক্ষিকার আচরণে আমরা হতবাক। তদন্ত সাপেক্ষে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।' অন্য একটি পোস্টের কমেন্টে একজন লিখেছেন 'এই রকম মানসিকতার গুরুজন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করে,তবে শিক্ষাব্যবস্থার মান কেমন হবে কিংবা শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে?'
এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে মনে করছেন ছাত্রলীগ নেতারা। শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি জাকির হোসেন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, 'সম্প্রতি ইবির একজন শিক্ষিকা ও ছাত্রীর ভেতরে যে কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে, সেটাতে শুধু ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। কে দোষী সেটা বের করার দায়িত্ব তদন্ত কমিটির। শিক্ষিকা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে আর ছাত্রী এক ছাত্রলীগ নেতাকে ব্যবহার করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।'
ওই শিক্ষিকার আচরণ শিক্ষক সূলভ হয়নি দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মিজানূর রহমান রহমান বলেন, ‘যে ঘটনা শুনেছি বা জেনেছি তা অবশ্যই নিন্দনীয়। একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শোভনীয় নয়। শিক্ষকদের আচরণ সবসময় শিক্ষক সুলভ হওয়া উচিৎ। পূর্বে তার যে পরিচয় থাকুক না কেন শিক্ষক হওয়ার পর সে পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা ঠিক হয়নি। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমি মনে করি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ক্যাম্পাসে নাই। তিনি ক্যাম্পাসে ফিরলে আমরা বসে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিব।’