১৯ অক্টোবর, ২০২২
লক্ষ্মীপুর জেলায় আজ পৃথক হত্যা মামলার রায়ে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।একই দন্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও একবছর করে কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২ টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম পৃথক দু’টি মামলার রায়ে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি জসিম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলার কমলনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের টি বয় মাকছুদুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার আসামি মাহমুদুল হাসান হিরু পলাতক রয়েছে। বাকি ৪ জন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
কমলনগরে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলো- মোবারক হোসেন, মানিক হোসেন, মাহমুদুল হাসান হিরু, আরাফাত আরেফিন ও বাবুল হোসেন। পলাতক হিরু হাজিরহাট ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া গ্রামে মৃত মহসিন মাষ্টারের ছেলে।
তিনি জানান, অপর মামলায় সদর উপজেলায় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার দায়ে স্বামী দেলোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। রায়ের সময় আসামি দেলোয়ার আদালতে উপস্থিত ছিল।
যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের পুকুরদিয়া গুচ্ছগ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের টি-বয় ও বাজারের নৈশ প্রহরী মাকছুদ ২০১৬ সালের ৩০ মে রাতে মাকছুদ বাজারের সরকারি দিঘীর দক্ষিণ পাড়ে টয়লেটে যান।
সেখানে আগে থেকে আসামি হিরুসহ অন্য আসামিরা ওঁৎ পেতে ছিল। মাকছুদ সেখানে আসা মাত্রই লাঠি দিয়ে পেছন থেকে তার মাথায় হিরু আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। পরে অন্যান্য আসামিরা তার হাত পা চেপে ধরে। এসময় হিরুসহ আসামিরা রশি দিয়ে তার গলায় প্যাঁচ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মাকছুদকে খুঁজে না পেয়ে তার ভাই বেলাল হোসেন কমলনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ৫ জুন সকালে স্থানীয় তহশিলদার বাড়ির বাথরুমের ট্যাংকির কাছে মাকছুদের পোশাক উদ্ধার করা হয়।পরদিন সকালে পুলিশ ওই ট্যাংকি থেকে মাকছুদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বেলাল বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কমলনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলার প্রথম আসামি শরীফ বিচার চলাকালে মারা গেছে। অপর ৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় দেয়। রায়ে বিচারক মোবারক হোসেন, মানিক হোসেন, মাহমুদুল হাসান হিরু, আরাফাত আরেফিন ও বাবুল হোসেন-কে যাবজ্জীবন করাদন্ড প্রদান করেন।
এদিকে, জেলার সদর উপজেলায় চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন কুশাখালী ইউনিয়নের পুকুরদিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৫ সালের ১২ জুন দিবাগত রাতে স্ত্রী শামছুন নাহারকে গলাটিপে হত্যা করে স্বামী দেলোয়ার হোসেন।পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা সাজায় দেলোয়ার।
এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার উদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুষ্প বরণ চাকমা একই বছর ১৫ ডিসেম্বর দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় দেয়। রায়ে বিচারক আসামি দেলোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন করাদন্ড প্রদান করেন।
সূত্র: বাসস