১০ এপ্রিল, ২০২৩
ঈদের আগেই বেতন পাবেন নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের ৩৭ হাজার শিক্ষক বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ। আজ সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, নতুন যে ৩৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন, এরমধ্যে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) প্রভিশন অনুযায়ী পিডিবি-৪ এর দুইভাবে বেতন পাওয়ার কথা। ২৬ হাজারের কাছাকাছি যাদের বেতন, তারা পাবেন পিডিবি-৪ এর প্রকল্প থেকে। আর বাকিরা পাবেন রাজস্ব থেকে।
সচিব বলেন, এভাবে নিয়োগপত্রে ডিপিই দলিল অনুসারে আমরা শর্ত আরোপ করেছিলাম। আগে শিক্ষকদের বেতনভাতা আইবাসের মাধ্যমে হতো না, এখন যেহেতু আইবাস প্লাস প্লাসে গিয়েছে, সে কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে যে যেহেতু তারা রাজস্ব খাতের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক। আর ডিপিইতে বলা আছে, প্রকল্প চলাকালীন প্রকল্প খাত থেকে পাবেন, তারপর রাজস্বতে যাবেন, এতে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল।
ফরিদ আহাম্মদ বলেন, আইবাস প্লাস প্লাসের সঙ্গে এটি খাপ খায়নি। এ কারণে ২৬ হাজার বেতন যাদের, তাদের ক্ষেত্রে একটু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে রোববার আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয় বিশেষ সভা ডাকে সেখানেই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এখন আর তারা প্রকল্প থেকে পাবেন না। সবাই রাজস্ব খাত থেকে পাবেন।
আইবাস প্লাস প্লাসের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এটি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়াটি করতে আমাদের সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচদিন সময় লাগবে। অর্থাৎ ঈদের আগেই সবাই রাজস্ব খাত থেকে বেতন পাবেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সার্কুলারে একবারে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। বিপুলসংখ্যক এই শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর যোগদান করেছেন জানুয়ারিতে। আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো মেলেনি কোনো অর্থ। শুধু বেতন না। এই সময়ে এই শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা ও ঈদ ভাতাও মেলেনি। ঈদ সামনে রেখে নতুন যোগ দেয়া এই শিক্ষকরা কোনো বেতন না পেয়ে ভুগছেন হতাশায়।
নিয়োগ পাওয়া সাড়ে ৩৭ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রায় সাত হাজার শিক্ষক সরাসরি রাজস্ব খাতভুক্ত। বাকি শিক্ষকরা চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) আওতায় সাব-কম্পোনেন্ট ‘প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা’র আওতায়। এই শিক্ষকদের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের বেতন ছাড় করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। মোট ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণ দুইশ’ ৫৯ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার দুইশ’ ৫০ টাকা। চলতি বছরের ২২শে মার্চ জারি করা হয় এই বিজ্ঞপ্তি।