৩০ দিনের মধ্যে বিয়ে না করলে চাকরি থাকবে না শিক্ষকের!

২৩ আগস্ট, ২০২৩

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিয়ে করতে এক সহকারী শিক্ষককে নোটিশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৩ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে এই তথ্য জানা যায়। গত ২৬ জুলাই নোটিশটি দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নোটিশ পাওয়া রনি প্রতাপ গোপালপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। তিনি উপজেলার সাজানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রনি ২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে সাজানপুর উচ্চবিদ্যালয়ে যোগ দেন। গত ২৬ জুলাই তাকে ওই নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

নোটিশে বলা হয়, ‘বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিয়ে করার জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিয়ে করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকরা অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে, কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

এদিকে নোটিশ পাওয়ার দুই দিন পর সহকারী শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাবে জানান, ‘আমার অভিভাবকরা বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্রপাত্রী বাছাইয়ে গোত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করেন না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে অভিভাবকেরা আমাকে বিয়ে করাবেন বলে জানিয়েছেন।’

শিক্ষক রনি প্রতাপ পাল জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুলের সব স্টাফকে ডেকে সবার সামনে তাকে বলে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিয়ে না করলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। হয়রানির ভয়ে তিনি গত ৩০ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, তিনি অবিবাহিত থাকলেও কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সই জাল করে চেকের মাধ্যমে স্কুলের বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সরকারি তদন্তে যাতে তিনি যেন সাক্ষ্য না দেন, সে জন্য তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ‘স্কুলে সহশিক্ষা চলমান রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠানে অবিবাহিত শিক্ষক থাকলে নানা অসুবিধা হতেই পারে। এ জন্য তাকে দ্রুত বিয়ে করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

গোপালপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। এভাবে নোটিশ করার এখতিয়ার কোনো প্রধান শিক্ষকের নেই।