চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ফের সক্রিয় চিনি সিন্ডিকেট

১৮ নভেম্বর, ২০২৩

আলু ডিম ও পেঁয়াজের পর দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ফের সক্রিয় চিনি সিন্ডিকেট। কোনো কারণ ছাড়াই সিন্ডিকেট চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। খাতুনগঞ্জে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি মনে (৩৭.২৩৭ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। শুক্রবার প্রতিমন চিনি ৫ হাজার ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার ১০০ টাকা বিক্রি হয়। যা চারদিন আগেও ছিল ৪ হাজার ৮০০ টাকার কাছাকাছি। সরকার চিনির দাম নির্ধারণ করে দিলেও আমদানিকারক, আড়তদাররা এর তোয়াক্কা করছেন না। তারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জকেন্দ্রিক কয়েকটি সিন্ডিকেট চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এরা চিনির বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে তারা। এদিকে বাজার থেকে অনেকটা উধাও হয়ে গেছে মোড়কজাত চিনি। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। তারা বলছেন, চিনির বাজারে প্রশাসনের কোনো ধরনের নজরদারি নেই। যার ফলে ব্যবসায়ীরা কিছু দিন পরপর ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, কিছু দিন চিনির বাজার স্থিতিশীল ছিল। দাম কমেছিল কেজিপ্রতি ৩ টাকা থেকে ৪ টাকা। কিন্তু কয়েক দিন ধরে চিনির দামে ফের অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাজারে যে পরিমাণ চিনির চাহিদা রয়েছে সরবরাহ তার চেয়ে অনেক কম। ফলে চিনির বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো চিনির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। চিনির বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জকেন্দি ক কয়েকটি সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছে। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না চিনি। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ দশমিক ৮১ টাকার বেশি দামে। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে।

চলতি বছরের মে মাসের মাঝমাঝি সরকার চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয়। সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়, বাজারে চিনির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা, সাধারণ ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি কেজি পরিশোধিত চিনি (খোলা) মিলগেট মূল্য ১১৫ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১১৭ টাকা, খুচরা মূল্য ১২০ টাকা এবং প্রতি কেজি পরিশোধিত চিনি (প্যাকেট) মিলগেট ১১৯ টাকা, পরিবেশক মূল্য ১২১ টাকা এবং খুচরা মূল্য ১২৫ টাকা নির্ধারণ করার সুপারিশ করে। কিন্তু তদারকির অভাবে এ দাম কার্যকর করতে পারেনি সরকার। উলটো আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) ব্যবসার প্রচলন রয়েছে। কোনো পণ্যের লেনদেন ছাড়াই একটি ডিও কয়েক দফা হাতবদল হয়। যতবার হাতবদল হয় ততবার ডিও বা পণ্যের দাম বেড়ে যায়। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এ ক্ষেত্রে চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়। এভাবেই বাড়ছে চিনির দাম। চিনির পাশাপাশি বেড়েছে আটার দামও। আটার প্রতিকেজির দাম বেড়েছে ১০ টাকার বেশি। আটা কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা থেকে ৬৬ টাকা। খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫৫ টাকা।

খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন   বলেন, আমদানিকারকরা চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আমাদের বেশি দামে চিনি কিনতে হচ্ছে। পুরো দেশের চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে গুটিকয়েকজন আমদানিকারক। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চিনির দামে।

বাজার দর : চট্টগ্রামের বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার প্রতিকেজি বেগুন ৬০, চিচিঙ্গা ৬০, টমেটো ১২০, বরবটি ৮০, পটল ৮০, লতি ৫০, ধুন্দল ৯০, ঢেঁড়শ ৬০, তিতা করলা ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। নগরীতে মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের রুই প্রতি কেজি ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এক কেজি ওজনের রুই ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা বিক্রি হয়। পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ার দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে। পাঙ্গাশ আকারভেদে ১৮০ থেকে ২১০ টাকা এবং তেলাপিয়া আকারভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগির। এদিন প্রতিকেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হয় ১৫৫ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হয় কেজি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা।