ছাত্রী মেসের ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে শিক্ষার্থীদের মারামারি, আহত ৭

১৪ মে, ২০২৪

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রী মেসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৩মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন নুরজাহান ছাত্রী মেসে এঘটনা ঘটে। এতে এক সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ওই মেসে থাকা ল' এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ফারিহা খাতুনের সাথে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব নিয়ে মেস ম্যানেজারের কথা কাটাকাটি হয়।

বিষয়টি ফারিহা তার ছেলে বন্ধু একই বিভাগের ও একই বর্ষের আবু হানিফ পিয়াসকে জানালে সে হলে থাকা তার বন্ধুদের নিয়ে ওই মেসে যায়। এসময় পিয়াসের সাথে ম্যানেজারের বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে মারামারি হয়।

এসময় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ করলে তারা ক্যাম্পাসে চলে আসে। স্থানীয়দের আক্রমনে পিয়াসসহ সমাজ কল্যাণ বিভাগের সাকিব আহমেদ, ইংরেজি বিভাগের হৃদয় আবির এবং আইসিটি বিভাগের নাঈম রেজা আহত হন বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা মেসের ম্যানেজর বিবেক বিশ্বাস ও স্থানীয় আশিক হোসেনকে মারধর করে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

এছাড়াও ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া ক্যাম্পাসের এক সংবাদকর্মীও স্থানীয়দের আক্রমনে আহত হন। পরে, শৈলকূপা থানাধীন রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে দুইজন পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় মাতাব্বরকে সাথে নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে সমোঝোতা করে দেন।

এ বিষয়ে ফারিহা খাতুন বলেন, মেসের ম্যানেজার বিভিন্ন সময় আমাকে বাজে ইঙ্গিত দিত। আমি সন্ধ্যায় ম্যানেজারকে বিদ্যুৎ বিল দিতে গেলে তিনি আমাকে বাজে ইঙ্গিত দেন। পরে আমি আমার বিভাগের বন্ধুকে (আবু হানিফ পিয়াস) বিষয়টি জানালে সে আমার বিষয়ে মেস ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে আসলে ম্যানেজার ও নিরাপত্তাকর্মী তার বাজে আচরণ করে।

পরে সে তার কিছু বন্ধুদের নিয়ে আবারও ম্যানেজারের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ম্যানেজার তাকে (আবু হানিফ পিয়াস) জামার কলার ধরে বের করে দেয়। তখন উভয়পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে। পিয়াস বলেন, ওই মেয়ের সাথে ম্যানেজার খারাপ আচরণ করলে সে আমাকে বিষয়টি জানায়। পরে আমরা বন্ধুরা সেখানে গেলে ম্যানেজারের সাথে ভালো ভাবে কথা বলি। একপর্যায়ে ম্যানেজার আমাদের একজনকে থাপ্পর মারে। পরে আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে এসে তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি আবারও চড়াও হন।

পরে স্থানীয়রা আমাদের উপর আক্রমণ করলে আমরা ক্যাম্পাসে চলে আসি। মেস মেনেজার বিবেক বিশ্বাস বলেন, গত জানুয়ারি মাসে ওই মেয়ে মেসে উঠে। এরপর সে এতদিন থেকেছে কিন্তু কোন বিদ্যুৎ বিল দেয়নি। তার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় এক হাজার টাকা। আমি কয়েকবার বিল চাইতে গেলে সে বিভিন্নরকম বাহানা দিতে থাকে। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে, আমি তার সঙ্গে কোন বাজে আচরণ করিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর রেজাউল করিম খান বলেন, মেসের মধ্যে কোন ঝামেলা হলে মেস ম্যানেজারকে জানাতে হতো। আর মেস মেনেজারের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে সেটা মেসের মালিকরে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। কিন্তু ওই মেয়েটা সেটা না করে তার বন্ধুদের ডেকে নিয়ে এসে একটা হুলুস্থুল কাণ্ড বাঁধিয়েছে, যেটা ঠিক হয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হোক আমরা চাইনা। মেয়েটি তার ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চাএয়ায় প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছি।

এস আই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করেছি। এখানে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।