প্রক্টরের অপসারণ চেয়ে কুবি শিক্ষকের অবস্থান

১৬ মে, ২০২৪

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ এম. আবদুল মঈনের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে শিক্ষকদের উপর হামলার সময় প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী কর্তৃক হামলার শিকার হোন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোকাদ্দেস-উল ইসলাম।

এসময় প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী ঐ শিক্ষককে ঘুষি মারেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন এবং লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগের ১৮ দিন পেরোলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিচার না পাওয়ায় প্রক্টরের পদত্যাগের জন্য বুধবার (১৫মে) ১১টা থেকে ২ টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাদদেশে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক মোকাদ্দেস-উল ইসলাম।

এসময় শিক্ষক সমিতির নেতারা এসে তার সাথে একাত্মতা পোষণ করেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, ভিসির সকল অপকর্মে সহযোগিতা করতে প্রক্টর বহিরাগতদের নিয়ে বলয় তৈরি করেছেন। এই জন্য ভিসি পুরস্কার হিসেবে প্রক্টরের পিএইচডি সিন্ডিকেটের যাচাই-বাছাই কমিটি সুপারিশ না করলেও গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর উপাচার্য সুপারিশ করে রেজিস্ট্রার বারবর চিঠি দেনন। এরপর ৯০তম সিন্ডিকেট ওনার পিএইচডি নথিভুক্ত করা হয় এবং বিভাগে জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়র শিক্ষককে পদোন্নতি না দিয়ে প্রক্টরকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র বানানো হয়।

অবস্থান কর্মসূচি পালন করা শিক্ষক মোকাদ্দেস-উল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি উপর সন্ত্রাসী হামলায় এখনো কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উপাচার্য ও প্রক্টর, তাদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই রক্ষক এখন ভক্ষক হয়েছে গিয়েছে। ২৮ তারিখে সন্ত্রাসী হামলায় আমি নিজেও ভুক্তভোগী। অভিযোগ করেছি, কিন্তু প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার জবাব পাইনি। আমি মনে করি প্রশাসন তার যোগ্যতা হারিয়েছে। আমি এমন প্রক্টরের পদত্যাগ চাই।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান বলেন, দুঃখজনক হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক শিক্ষকদেরকে আঘাত করেছে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। বহিরাগত অস্ত্রধারী এবং মামলার আসামীদেরকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে অনিরাপদ করে তুলেছে এই প্রক্টরের নেতৃত্বে। অচিরেই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তা নাহলে শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হবে।

উল্লেখ্য, পূর্বেও (ভারপ্রাপ্ত) প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ভূমি বাণিজ্য, ছাত্রলীগের সহিংসতায় উস্কে দেওয়া, বহিরাগতদের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধর করা এবং খেলার শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।